বরগুনার আমতলী উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষাবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ছোট নীলগঞ্জ গ্রামে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা চলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোট নীলগঞ্জ এলাকার আবুল হোসেন গাজী ও রুস্তম হাওলাদারের মধ্যে প্রায় তিন একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জমিটি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। রোববার সকালে রুস্তম হাওলাদার তার পক্ষের লোকজন নিয়ে ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আবুল হোসেন গাজীর লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর খোকন, সোহেল মোল্লা, জলিল গাজী, আখিনুর, রুস্তম হাওলাদার ও মাহবুবুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত আবুল হোসেন গাজী অভিযোগ করেন, এটি তার পৈতৃক জমি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রুস্তম হাওলাদার লোকজন নিয়ে সেখানে জোর করে চাষাবাদ করতে আসেন। বাধা দিলে তার পক্ষের ১৩ জনকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে রুস্তম হাওলাদারের ছেলে পাশা হাওলাদার বলেন, তারা জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আবুল হোসেন গাজী ও তার লোকজন বাধা দেন। এ সময় সংঘর্ষে তাদের পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক বলেন, আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।