মুরাদনগর উপজেলা শ্রীকাইল ইউনিয়ন এলাকায় তিন ফসলি কৃষি জমি থেকে রাতদিন ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে পরিবেশ ও কৃষি জমি উভয়ই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রোববার (২১ জুন) শ্রীকাইল ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মোহাম্মদ পুর (কালাপাইলা) গ্রামের বিলে তিন ফসলি জমি থেকে ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর করে টপ সয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে। তিন ফসলি ১শ' শতাংশ জমি কেটে পুকুর তৈরি করা এবং বিক্রি জন্য প্রস্তুতি চলছে। জমির মালিক মনির হোসেন সাথে বারবার যোগাযোগ করেও কোন উত্তর নিতে পারি নাই। তবে ইয়াসিন বলেন, জমির মালিক আমার চাচা মনির হোসেনের। আমিই জমি কাটছি ভেকু দিয়ে যা বলবেন আমাকে বলেন। জমি কাটছেন মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের কোন অনুমতি নিয়েছেন কিনা প্রশ্ন করলে তিনি কথা এরিয়ে যান। ইয়াসিন সম্প্রতি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগে সাতদিন জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় তিন ফসলি কৃষি জমির টপ সয়েল তুলে নিচ্ছেন। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশংকা করছেন কৃষকেরা। এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জমি খেকুড়া হল মোহাম্মদপুর গ্রামের মুরশিদ মিয়ার ছেলে ইয়াসিন। মৃত্যু শহিদ মিয়ার ছেলে মনির হোসেন। মৃত্যুঃ আঃ সামাদের ছেলে আমিনুল ইসলাম।
মুরাদনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ পাভেল খাঁন পাপ্পু বলেন, তিন ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে ফেললে জমির ব্যপক ক্ষতি হয়। টপ সয়েল হলো মাটির সবচেয়ে উর্বর স্তর, যা জৈব ও খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। সাধারণত মাটির ওপরের ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত এই স্তর থাকে। এটি ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টপ সয়েল নষ্ট হলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অন্তত তিন বছর সময় লাগে। কৃষকদের টপ সয়েল না কাটতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশন (ভূমি) সাকিব হাসান খাঁন বলেন, ভেকু দিয়ে তিন ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।