স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে নার্সকে হেনেস্তা: নিরাপত্তা জোরদারে আনসার মোতায়েন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে গভীর রাতে একদল বহিরাগত যুবক প্রবেশ করে কর্তব্যরত এক নার্সকে হেনস্তার ঘটনার পরে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে ১০ জন আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।   
 
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে এক যুবক হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন। 
 
অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওয়ার্ডে ভর্তি নারী রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এ ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরে ওই যুবক নার্সদের কক্ষে প্রবেশ করে কর্তব্যরত এক নার্সের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ করেন হাসপাতালের কর্মীরা।
ঘটনার পর হাসপাতালের নার্সরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তৌহিদুল আলমের কাছে স্মারকলিপি দেন। 
 
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, একদল যুবক হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে নারী ওয়ার্ডে ভিডিও ধারণ করেন এবং দায়িত্ব পালনরত নার্সদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হয় এবং চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, সরকারি হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে গভীর রাতে বহিরাগতদের প্রবেশের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নারী রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
 
এদিকে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবনিয়োগপ্রাপ্ত ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তার নেতৃত্বে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় হাসপাতালের নিরাপত্তা, রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সেবার মানোন্নয়নে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব নয়। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।