টানা বর্ষণে প্রাণ ফিরলো কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের পানির সংকট কাটিয়ে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কপাবিকে) পাঁচটি উৎপাদন ইউনিট একযোগে চালু করা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৪ মেগাওয়াটে, যা দেশের চলমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কেন্দ্রটির সবগুলো ইউনিট পর্যায়ক্রমে চালু করা হয়। টানা বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পর্যাপ্ত পানি জমায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল। কয়েকদিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতের ফলে পানির স্তর সন্তোষজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই মঙ্গলবার রাত থেকে পাঁচটি ইউনিটই একযোগে চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।’

কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৮৪.৫২ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। যদিও এ সময়ের জন্য নির্ধারিত রুলকার্ভ অনুযায়ী পানির স্তর থাকার কথা ৮৪.৯৬ ফুট এমএসএল, অর্থাৎ এখনও প্রায় ০.৪৪ ফুট ঘাটতি রয়েছে। তবে বর্তমান পানিপ্রবাহ বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

বর্তমানে চালু থাকা পাঁচটি ইউনিট থেকে মোট ১৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। অথচ কয়েক সপ্তাহ আগেও তীব্র পানিসংকটের কারণে কেন্দ্রটিতে মাত্র একটি বা দুটি ইউনিট সচল রেখে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছিল। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।

প্রকৌশলীরা জানান, চলতি বছরের দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং কাপ্তাই হ্রদের পানি আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয়। গত ৬ জুলাই তিনটি ইউনিট চালু করা হয় এবং মঙ্গলবার রাতে বাকি দুটি ইউনিটও চালু হওয়ায় বর্তমানে পাঁচটি ইউনিটই উৎপাদনে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মোট স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট (পিক আওয়ারে প্রায় ২৪০ মেগাওয়াট)। হ্রদের পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পেলে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং উজানের পানিপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে হ্রদের পানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।