দেশজুড়ে চলমান অতিভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসের আশঙ্কায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক পাহাড়ি অঞ্চলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বান্দরবান, সাজেক ও মিরসরাইয়ের সবকটি পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটক প্রবেশে জারি করা হয়েছে জরুরি নিষেধাজ্ঞা।
সারাদেশের পর্যটন সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি ও নিষেধাজ্ঞাসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
বান্দরবান
পাহাড় ধস ও অতিবৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এই সময়সীমার মধ্যে জেলার কোনো পর্যটন কেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল কিংবা নদীপথে পর্যটক এবং ট্যুর অপারেটরসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টায় বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকি রয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্র আগামী ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখ (শুক্রবার) পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এই সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনসহ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হলো।
রাঙামাটি
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধসের আশঙ্কা এবং বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা জারি করেন।
জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর-এর ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং রাঙামাটি জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে টানা ভারী বর্ষণের ফলে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস, পাহাড়ধস ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ৭ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ সময়ে সাজেকের সকল পর্যটন স্পট, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং জেলা প্রশাসনের জারি করা সকল নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য জনসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। আবহাওয়ার উন্নতি এবং ঝুঁকি কমে এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম
টানা বৃষ্টিতে দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত উপজেলার সব কটি ঝরনায় পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলার ঝরনাগুলোর ইজারাদারদের সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোর ইজারাদার মেসার্স ‘থ্রি বি’র স্বত্বাধিকারী ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বন বিভাগের নির্দেশনার পর আমরা মিরসরাইয়ে আমাদের ইজারাভুক্ত সব কটি ঝরনায় সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। আমাদের কর্মীরা সার্বক্ষণিক বিষয়টি তদার করছে।’
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘ভারী বৃষ্টির এই সময়ে পাহাড়ি ঢলে ঝরনা এলাকার ঝিরিগুলোতে তীব্র স্রোত তৈরি হয়। দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে অনেক পর্যটক অতি উৎসাহী হয়ে অথবা না বুঝে বিপদে পড়েন। তাই আমরা ১০ জুলাই পর্যন্ত সব কটি ঝরনায় ভ্রমণ বন্ধ রাখার বিষয়ে ইজারাদারদের নির্দেশনা দিয়েছি।’
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সারা বছরই পর্যটকেরা এসব ঝরনায় এলেও বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ভিড় কয়েক গুণ বাড়ে। সরকারি ছুটি ও উৎসবের দিনগুলোয় শুধু খৈয়াছড়া ঝরনাতেই দিনে দুই হাজারের বেশি পর্যটক আসেন।
ঝরনাগুলোয় পৌঁছাতে হলে পাথুরে ঝিরিপথ ও পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হয়। এ কারণে এখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। অনভিজ্ঞতা, অসতর্কতা, ঝরনার চূড়ায় উঠে সেলফি তোলার প্রবণতায় ভ্রমণের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। যেকোনো দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসে মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, গত ছয় বছরে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন ঝরনায় ছোট-বড় ৩৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সাতজন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫১ জন।
টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, যেসব জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা
কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
চট্টগ্রাম-রাঙামাটিতে বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত