টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে আবারও বাড়ছে পানি। এতে রাঙামাটি শহরে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও ডুবে গেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সেতু পারাপারের ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।
পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চেঙ্গী, মাইনী, কাচালং নদী এবং ভারতের মিজোরাম থেকে সৃষ্ট কর্ণফুলী নদীর পানি কাপ্তাই হ্রদে এসে মিশেছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কয়েক দিন ধরেই কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়ছে। উজান থেকে পানি আসা অব্যাহত থাকায় শুক্রবার বিকেলে ডুবে যায় ঝুলন্ত সেতু। ঝুঁকি এড়াতে পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেতুতে দর্শনার্থীদের ওঠার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, হ্রদে পানি বাড়ার কারণে ঝুলন্ত সেতুতে শুক্রবার বিকেলে চার ইঞ্চি পানি উঠেছে। ঝুঁকি এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য সেতু দিয়ে পারাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। পানি কমলে পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য সেতু খুলে দেওয়া হবে।
এদিকে, কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধির কারণে পাঁচ দিনের ব্যবধানে আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট। এ নিয়ে এ বছর তৃতীয়বারের মতো জলকপাট খোলা হয়েছে। শুক্রবার সকালে কাপ্তাই হ্রদের পানি ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএল পৌঁছানোর পর কর্তৃপক্ষ জলকপাটগুলো ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেয়। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর বাঁধের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করা হয়।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএল। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে জলকপাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। তাই পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।