ঝিনাইদহে রাশেদ খাঁন

দুটি দাবি পূরণ হলেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ভাবা সম্ভব

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ভারত থেকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটি একান্তই বাংলাদেশের বিষয়। কোনো দেশের চাপ বা প্রভাবের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের সিদ্দিকীয়া আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট ও খুনি শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা হাদি হত্যাকারীদের ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব ভারতের কাছে রাখা হয়েছে। এই দুটি দাবি পূরণ হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়টি নিয়ে ভাবা সম্ভব। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পর দেশকে সংস্কার করে একটি সুন্দর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সরকার। অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের এই সময়ে বিরোধী দলগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।

রাশেদ খাঁন বলেন, ছোটখাটো যেসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে বসে সমাধান করা সম্ভব, সেগুলোকে বড় করে তোলা হচ্ছে। এতে শুধু দেশের রাজনৈতিক পরিবেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, আন্তর্জাতিক পরিসরেও সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের ভাষা ব্যবহার করছেন। তার মধ্যে আমি পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ছবি দেখতে পাই।

জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ প্রসঙ্গেও কথা বলেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, তেল-গ্যাস সংকটের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামী সঠিক রাজনৈতিক পথ বেছে নেয়নি। সরকার যখন ভারতবিরোধী ও আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থানে রয়েছে, তখন সরকারের সহযোগিতায় না এসে উল্টো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করা দুঃখজনক ও হতাশাজনক।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, দলের সব নেতাকর্মীকে তাকেই মেনে নিতে হবে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নিলে কিংবা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রার্থী বা পক্ষকে সমর্থন করার সুযোগ নেই। নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে সবাইকে মেনে চলতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এস এম সমেনুজ্জামান সমেন।

জেএম
আরও পড়ুন