কুমিল্লার মুরাদনগরে মো. আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতাকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার উত্তর পেন্নই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের পক্ষে কাজ করেছিলেন। অন্যদিকে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের সমর্থক ছিলেন। ওই নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলম সরকারের কাছে ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন পরাজিত হন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় আড়াই বছর ধরে এলাকায় ছিলেন না আনোয়ার। শনিবার গভীর রাতে তিনি গোপনে নিজ বাড়িতে ফেরেন। বিষয়টি জানতে পেরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়।
পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা আনোয়ারকে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্ত্রী মোমেনা বেগমও আহত হন। মোমেনার অভিযোগ, হামলার পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ জন্য এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। আহত আনোয়ারকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের সহায়তায় সকাল ৬টার দিকে আনোয়ারকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুস সাকির জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আনোয়ারের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, নিহত আনোয়ার বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মারামারির ঘটনায় থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে।