জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের লাকুড়িয়ার কান্দি গ্রামের পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়। 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রেপ্তার তিনজনকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাকুড়িয়ার কান্দি গ্রামের আনোয়ার উল্লার দুই ছেলে মজিব উল্যাহ ও প্রয়াত শরিফ উল্যার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। মঙ্গলবার বিরোধপূর্ণ জায়গায় ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের সন্তানদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে মারামারি হয়। এ সময় মজিব উল্যাহর মেয়ে শারমিনের চোখে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে শরিফ উল্যাহর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

পরে খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে পাশের গোপালপুর ইউনিয়নের রসূলপুর গ্রাম থেকে শারমিনের স্বামী মো. ইস্রাফিল কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে গিয়ে তারা শরিফ উল্যাহর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান।

এ সময়ের একটি ভিডিও পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে হামলাকারীদের মধ্যে দুজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। কয়েকজনকে মুখোশ পরা অবস্থায়ও দেখা যায়। ভিডিওতে অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের শরিফ উল্যাহর পরিবারের সদস্যদের দিকে এগিয়ে যেতে এবং তাঁদের বসতঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করতে দেখা যায়।

তবে ভিডিওতে দেখা অস্ত্রগুলো কী ধরনের এবং সেগুলো বৈধ কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় শরিফ উল্যাহর ছোট ছেলে মোবারক উল্যাহ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

ওসি জানান, মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. ইস্রাফিল, তার বাবা তোফায়েল আহমেদ এবং শ্বশুর মজিব উল্যাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি মামলার এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।