পাবনার সুবিধাবঞ্চিত,অসহায়, দরিদ্র তথা প্রান্তিক মানুষের কাছে আলহাজ আহেদ আলী বিশ্বাস ‘মানবকল্যাণ ট্রাস্ট’ (এবি ট্রাস্ট )একটি অনন্য নাম, একটি পরম ভরসার প্রতীক। দরিদ্র,অষহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তা এবং মানব উন্নয়নে এই ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। জেলার কুঠিপাড়া, কিসমতপ্রতাপপুরে গড়ে ওঠা এবি ট্রাস্টের সার্বিক নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আছেন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা,সমাজ সংস্কারক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারি অ্যাভোকেট শামছুর রহমান শিমুর বিশ্বাস,এমপি। তাঁর নেতৃত্বে এবি ট্রাস্ট ২০০৭ সালের ১৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়।শিমুল বিশ্বাসের বলিষ্ঠ ও মানবিক নেতৃত্বে অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ কল্যাণমুখী এই ট্রাস্টটি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে শিক্ষা,স্বাস্থ্য,দুর্যোগ মোকাবেলা,আবাসন,প্রতিবন্ধী কল্যাণ,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি ও সংস্কার এবং পরিবেশ রক্ষায় এক অভূতপূর্ব ও যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে চলেছে। সেবা ও সহায়তার ক্ষেত্রে এবি ট্রাস্ট কখনও জাত-পাত,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র, নারী-পুরুষ ভেদাভেদ করে না।
শিক্ষা ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রসারে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ
অ্যাড.শিমুল বিশ্বাসের যৌথ পরিবার শহরাঞ্চলে প্রায় ৫ একর এবং গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১১০ একর জমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজ,এতিমখানা,আধুনিক পাঠাগার এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেতে দান করেছে। ট্রাস্ট পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩,৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত বৃত্তি ও বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী প্রদানের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করতে আধুনিক আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন
অসহায় মানুষকে কেবল সাময়িক সাহায্য না দিয়ে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার দর্শনে বিশ্বাসী এ্যাড. শিমুল বিশ্বাস। এ লক্ষ্যে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ট্রাস্ট থেকে বিনামূল্যে সিএনজি ও অটোরিকশা বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে এবি ট্রাস্ট। উপকারভোগী শত শত মানুষ ট্রাস্টের এই মহতী উদ্যোগে আজ কতৃজ্ঞ। নারীদের সমাজের উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত করার নীতিতে বিশ্বাস করে ট্রাস্ট। এ লক্ষ্যে অসচ্ছল ও দরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, ক্ষুদ্র উদ্যোগে সহায়তা দেয়া এবং গবাদি পশু কিনে দেয়া হয়। তরুণ-তরুণীদের আত্মকর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীল করতে কারিগরি শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে ট্রাস্ট আইটি প্রশিক্ষণ ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে।
আবাসন নিশ্চিতকরণ ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো
গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ট্রাস্ট দীর্ঘমেয়াদী গৃহায়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ পর্যন্ত অসংখ্য অসহায় ও দুস্থ পরিবারের জন্য নতুন আবাসন নির্মাণ ও ঘর মেরামতে সহায়তা দেয়া হয়েছে। শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের স্বাভাবিক চলাচলের সুবিধার্থে নিয়মিত হুইলচেয়ার বিতরণ এবং আর্থিক অনুদান দেয়া হয়। নিশ্চিত করা হয় সমাজের অসহায়,প্রবীণ ও বিধবা নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা। এছাড়া দুই ঈদের সময়, রমজান মাসে এবং বছরের অন্যান্য সময় অসহায়,দুস্থ,প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধীদের নগদ আর্থিক সহায়তা,চাল-ডাল-তেল খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য দিয়ে নিয়মিত সহায়তা করা হয়।
ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে মসজিদ,মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা
ধর্মীয় সম্প্রীতি,সামাজিক সৌহার্দ্য বিকাশ ও নৈতিক জীবনচর্চার লক্ষ্যে ট্রাস্টের উদ্যোগে পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধর্মীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
বহু এলাকায় নতুন মসজিদ নির্মাণ ও পুরাতন মসজিদগুলোর আধুনিকায়ন এবং পুনঃসংস্কার করা হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য অসংখ্য মসজিদের ওজুখানা ও আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ট্রাস্ট। শিশুদের দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বেশ কিছু হাফেজিয়া ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া এতিম শিশুদের নিরাপদ আবাসন,উন্নত-পুষ্টিকর খাদ্য ও শিক্ষার সুন্দর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এতিমখানা ও মানবিক পরিচর্যা কেন্দ্র নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর ও গেট নির্মাণ এবং গ্রামীণ কবরস্থানগুলোর সংস্কার ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ট্রাস্ট মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ট্রাস্ট বিভিন্ন শ্মশানের সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুবিধা সম্প্রসারণে সহায়তা দিয়ে আসছে।
অসহায়দের বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা
অসহায় দরিদ্র অসুস্থ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ট্রাস্ট প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত আয়োজন করা হয় চিকিৎসা শিবির যাত দরিদ্র অসুস্থ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারে। অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া রোগ প্রতিরোধে নিরাপদ পানি ব্যবহার,ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সুষম পুষ্টি গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনাচরন গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে ট্রাস্ট।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি সহায়তা
প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা বৈরিতার সময় বিপন্ন সাধারণ মানুষের সেবায় এবি ট্রাস্ট অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর শীতের সময় হাজার হাজার অসহায় মানুষ ও শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসম্মত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা, মহামারী বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে দুর্গতদের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী,জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়ে ট্রাস্টটি মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় এবি ট্রাস্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছে। ট্রাস্টের উদ্যোগে পাবনার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। ভরাট হয়ে যাওয়া পাবনা ইছামতি নদীর প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ খনন এবং ৫ কিলোমিটারের বেশি অংশে অবৈধ দখলমুক্ত করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবি ট্রাস্ট পালন করেছে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার
আগামী দিনগুলোতে সমাজসেবার এই পরিধিকে আরও বৃহৎ আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে এবি ট্রাস্ট। ট্রাস্টের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩,৫০০ থেকে ১০,০০০-এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে দরিদ্র রোগীরা শতভাগ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন।
কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আরও ১০,০০০ বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জেলাকে শতভাগ স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস।
সার্বিকভাবে, অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের মানবিক মূল্যবোধ,সততা ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতার নীতিকে ধারণ করে এবি ট্রাস্ট একটি টেকসই,বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে নিরলস অবদান রেখে চলেছে,যা দেশের সমগ্র মানবকল্যাণমূলক সংগঠনের জন্য একটি অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।