টানা সপ্তম দিনের সড়ক অবরোধে অচল সাজেক

পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে টানা সপ্তম দিনের মতো সড়ক অবরোধ চলছে। বুধবারও (২৮ অক্টোবর) অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পর্যটনকেন্দ্র সাজেক। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে সাজেকের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। কয়েকটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে দেখা গেছে। তবে অবরোধ চলাকালে সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার উজোবাজারে সাপ্তাহিক হাট বসার দিন হলেও অবরোধের কারণে লোকসমাগম ছিল খুবই কম। দূরদূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা বাজারে যেতে পারেননি। টানা এক সপ্তাহ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সংকটের মুখেও পড়তে হচ্ছে।

এদিকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, সপ্তম দিনেও পর্যটন সড়কের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তবে রোগীবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স, সাংবাদিক এবং ধর্মীয় কাজে নিয়োজিত ভিক্ষুদের যানবাহনসহ জরুরি সেবার যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দু-একটি মোটরসাইকেল চলাচল করছে। সড়কে অবরোধকারীদের কোথাও ব্যারিকেড দিতে দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অবরোধ চলছে।

সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সদস্যদের দ্রুত সাজেক থেকে সরানো, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ অবরোধের ডাক দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। গত সোমবার সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উজোবাজারে বৈঠক করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে পাঁচ দফা দাবির চারটি মেনে নেওয়া হলেও বাকি একটি দাবি নিয়ে মতৈক্য না হওয়ায় আলোচনা অমীমাংসিত থাকে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকট নিরসনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।