রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে পর্যটকবাহী গাড়িবহরে হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ এবং প্রায় তিন হাজার পর্যটককে আটকে পড়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সশস্ত্র রাজনীতি, আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব ও পর্যটননির্ভর অর্থনীতির নিরাপত্তা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পার্বত্য চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যদের দায়ী করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। রাঙামাটির পুলিশ সুপারও সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হামলার সঙ্গে ইউপিডিএফের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে।
ঘটনাটি শুধু একটি পর্যটন সড়কে অবরোধ কিংবা পর্যটক উদ্ধারের অভিযান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাজেকে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর পারস্পরিক সংঘাত, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা; সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ইউপিডিএফের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া কিংবা পর্যটকদের জিম্মি করে প্রতিপক্ষকে সরানোর কৌশল নেওয়ার অভিযোগ এখন পাকাপোক্ত ভাবেই উঠেছে।
রাঙামাটির সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ির আয়তনে বৃহত্তম ইউনিয়ন সাজেক। ভারতের মিজোরাম সীমান্তসংলগ্ন পাহাড়ি এ জনপদ একসময় দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পরিচিত ছিল। গত দেড় দশকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এবং পর্যটন অবকাঠামো গড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে সাজেক দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সাজেক ভ্যালির পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গড়ে উঠেছে রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট নানা ব্যবসা। স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতিতেও পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে রয়েছে বনজ সম্পদ, বাঁশসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ব্যাপকহারে কৃষিপণ্য উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা। কিন্তু পর্যটনের এই বিকাশের বিপরীতে নিরাপত্তাহীনতা, সড়ক অবরোধ ও সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে স্থানীয় মানুষের জীবিকা, পর্যটন ব্যবসা এবং পুরো এলাকার অর্থনীতিতে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সাজেকের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফের প্রভাব ও সাংগঠনিক তৎপরতা ছিল। দুর্গম পাহাড়ি ভূ-প্রকৃতি, সীমান্তবর্তী অবস্থান এবং যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চলাচল ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্যও জটিল।
স্থানীয় সূত্রগুলোর জানায়, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) প্রভাব বিস্তারের ফলে ইউপিডিএফের চলাচল ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের পরিসর সংকুচিত হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ, চাঁদা আদায় এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ ঘিরে বিরোধের বিষয়টিও সামনে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাজেকের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব লেনদেনের পরিমাণ শত কোটি টাকা প্রায়। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের প্রভাব বাড়ায় ইউপিডিএফের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের পাশাপাশি অবরোধ, পর্যটন চলাচলে বাধা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে চাপ তৈরির মতো কৌশল ব্যবহারের চেষ্ঠায় নেমেছে ইউপিডিএফ।
সাজেকের সর্বশেষ ঘটনার আগে থেকেই সেখানে অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করে। তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ার কথা জানিয়ে সংগঠনগুলো ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ২১ অক্টোবরের মধ্যে এলাকা ছাড়ার অনুরোধ জানানো হয়। পরদিন পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের মধ্যেই গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
আইএসপিআরের বক্তব্য অনুযায়ী, অবরোধের কারণে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে। আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, ২২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পর্যটকবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল পরিস্থিতি সমাধানে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। বিবৃতির ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে অবরোধকারীদের একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং যান চলাচল পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেয়।
এরপর আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে প্রাথমিক তথ্যের বরাতে জানিয়েছে আইএসপিআর। আত্মরক্ষা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলি চালালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আইএসপিআর ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা হিসেবে উল্লেখ করে আরও জানায়, স্থানীয় জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও সার্বিক পরিস্থিতি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাজেকে অবরোধের নেতৃত্বদানকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে হামলার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে ইউপিডিএফের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উঠে আসে। পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ইউপিডিএফ সাজেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করে। সংগঠনটির মুখপাত্র অঙ্গ মার্মার বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে এ ধরনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিবৃতিতে ইউপিডিএফ দাবি করে, জেএসএস-সংশ্লিষ্ট একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরানোর দাবিতে স্থানীয় জনগণের চলমান সড়ক অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করার চেষ্টা করা হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একতরফাভাবে গুলি চালিয়েছেন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। ইউপিডিএফ এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউপিডিএফ এর এই বিবৃতি প্রদান ঠাকুর ঘরে কে-রে আমি কলা খাইনি’র মতোর অবস্থা ফুটে উঠেছে।
একদিকে আইএসপিআর ও পুলিশ ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে গুলিবর্ষণের অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে সংগঠনটি সেই অভিযোগ অস্বীকার করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ আনছে। ফলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাজেকের সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা কি আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পারস্পরিক আধিপত্যের লড়াইয়ে চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে উঠছে?
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিন্তু পর্যটকদের অপহরণ বা জিম্মি করে নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ইউপিডিএফ গ্রহণ করেছে; তারই ধারাবাহিকতায় সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাতের কারণে সশস্ত্র তৎপরতার ধরন বদলাতে পারে। সরাসরি সংঘাতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে অবরোধ, পর্যটন চলাচলে বাধা কিংবা নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হতে পারে; এমন আশঙ্কাও তাঁরা প্রকাশ করছেন।
অন্যদিকে, সাজেকের ঘটনা পর্যটননির্ভর জনপদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। হাজার হাজার পর্যটক আটকে পড়া, তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সময় সংঘাতের সৃষ্টি এবং গুলিবর্ষণের অভিযোগ; সবই পরিস্থিতির গভীরতা তুলে ধরেছে সংশ্লিষ্টদের কাছে। সাজেকের গঙ্গারাম বাজারের ঘটনা পাহাড়ের আঞ্চলিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, পর্যটন অর্থনীতির নিরাপত্তা এবং বেসামরিক মানুষের ঝুঁকি নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগ সত্য হলে তা গুরুতর নিরাপত্তা সংকেত। সাজেকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক বিরোধের জিম্মি হতে পারে না।
সাজেকের স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটন ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক অবরোধ বা সশস্ত্র সংঘাতের কারণে পর্যটনকেন্দ্র বারবার বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় অর্থনীতি। সব মিলিয়ে, সাজেকের গঙ্গারাম বাজারের ঘটনা শুধু একটি দিনের সহিংসতা নয়; এটি পাহাড়ের আঞ্চলিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, পর্যটন অর্থনীতির নিরাপত্তা এবং বেসামরিক মানুষের ঝুঁকি নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। আধিপত্যের বার্তা দিতে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে, নাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে এমন প্রশ্নও সামনে এসেছে। আঞ্চলিক বিরোধের মূল্য যেন পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষকে দিতে না হয়, তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানালো বাংলাদেশ
৩ দিন বন্ধ থাকছে হজ পোর্টাল
পারস্য উপসাগরে এখন মার্কিন বাহিনী নেই: আইআরজিসি