সাজেকে ৫ দফা দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনেও চলছে সড়ক অবরোধ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

রাঙামাটির সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের তৃতীয় দিন চলছে। ২২ অক্টোবর অবরোধকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। দাবিগুলো অবিলম্বে মেনে নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, ২২ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তারা।

সংগঠন দুটির পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবরোধকারীদের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি ও মামলা প্রত্যাহার; উজোবাজারে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া; আহত নারী-পুরুষের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ; সাজেক থেকে জেএসএসের সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করা; এবং আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হয়রানি ও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধ করা।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, উজোবাজার এলাকায় দিন-রাত ঘেরাও পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। বাজারে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দোকানপাটে ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে মালামাল গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন নেতারা। নির্যাতনের ভয়ে উজোবাজার এলাকা থেকে শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া শনিবার সকালে ডিপুপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ঝরণা চাকমাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংগঠন দুটির নেতারা। তাদের দাবি, গত ১১ অক্টোবর সড়ক অবরোধ চলাকালে সাংবাদিকদের সামনে সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাকে অপহরণ বা গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমা বলেন, দমন-পীড়ন চালিয়ে সাজেকবাসীর আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। তারা অবিলম্বে পাঁচ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

সাজেকে চলমান অবরোধ ও সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে পর্যটন কার্যক্রম ও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত