কয়েক বছর ধরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা জুড়ে পাটের আবাদ বেড়েছে। এবার পাটের ফলনও হয়েছে ভালো। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
বর্তমানে বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকেরা আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে পাটের আরও ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা।
এখন বিভিন্ন হাটে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। ভালো মানের পাটের দাম মিলছে গড়ে চার হাজার টাকা প্রতি মণ। অন্যদিকে তুলনামূলক নিম্নমানের পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে। কৃষকেরা বলছেন, পাট যত পুরোনো হবে, দামও তত বাড়বে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর কটিয়াদীতে ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। প্রায় সবখানেই ফলন ভালো হয়েছে। একসময় যে জমিগুলো পতিত পড়ে থাকত, এবার সেখানে অনেকেই পাটের আবাদ করেছেন। লাভজনক হওয়ায় নতুন অনেক কৃষকও পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধান চাষে অতীতে নানা কারণে লোকসানের মুখে পড়ায় অনেক কৃষক এবার পাট চাষের দিকে ঝুঁকেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর এলাকার জোয়ারিয়া গ্রামে রাস্তার পাশে শুকানো হচ্ছে নতুন পাট। এছাড়া মানিখালী, করগাঁও, সহশ্রাম, ধুলদিয়া ইউনিয়নের সুতি এলাকা, মসুয়া, বনগ্রাম ও লোহাজুরীসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে পাট শুকানোর ধুম। কোথাও কৃষকেরা জমি থেকে পাট কাটছেন, কোথাও পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন। রাস্তার পাশে শুকানো হচ্ছে পাট ও পাটকাঠি। বাতাসে ভেসে আসছে নতুন পাটের ঘ্রাণ। বিভিন্ন জলাশয়ের ধারে শ্রমিকেরা পচানো পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকিয়ে বাড়িতে নিয়ে বান্ডিল তৈরি করছেন। কয়েক দিন ধরে আশপাশের এলাকার কৃষকেরা পাট নিয়ে আসছেন বিক্রির জন্য। কটিয়াদী পুরাতন বাজারের প্রাচীন পাটের মোকামগুলোতেও এখন নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে।
বনগ্রাম ইউনিয়নের নন্দিপুর গ্রামের কৃষক আক্কাস মিয়া বলেন, এই মৌসুমে আমি দুই একর জমিতে পাটের চাষ করেছি। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমার জমিতে অন্তত ৪৫ মণ পাট হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।
লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের কৃষক আবুল হাশিম বলেন, এখন বাজারে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও কিছুদিন পর ৪ হাজার ৫০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। পাট যত পুরোনো হবে, দাম তত বাড়বে। অনেক সময় ব্যবসায়ীরা ভালো পাটকেও মানহীন বলে দাম কমানোর চেষ্টা করেন। বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে আমাদের জন্য ভালো হবে।
কটিয়াদী বাজারের পাট ব্যবসায়ী জুয়েল সাহা বলেন, ভালো মানের পাট মণপ্রতি ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত কেনা হচ্ছে। সবে পাট বাজারে আসতে শুরু করেছে। এখনো পুরোদমে পাট ওঠেনি। বড় ব্যবসায়ীদের কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করতে পারলে ব্যবসা ভালো হবে। বেশি দিন পাট গুদামে জমে থাকলে সমস্যা হয়।
কটিয়াদী বাজার পাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবীর সাহা বলেন, বর্তমানে তোষা পাট প্রকারভেদে মণপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মেস্তা পাটের দামও প্রায় একই। মিল মালিকরা নগদ অর্থ পরিশোধ করলে ব্যবসায়ীদের পাট কিনতে সুবিধা হয়। গুদামে পাট জমে থাকলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলে বাজার আরও ভালো থাকবে।
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর কটিয়াদী উপজেলায় ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন। তবে অনেক কৃষক অপরিষ্কার ও কম পানিতে পাট জাগ দেন, এতে আঁশের মান কিছুটা কমে যায়। তাই বেশি ও স্বচ্ছ পানিতে পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে পাটের মান আরও উন্নত হবে।