চিকিৎসক-জনবল সংকটে ব্যাহত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সেবা

গাজীপুরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। এতে যেমন সময় ও ব্যয় বাড়ছে, তেমনি ভোগান্তিও বাড়ছে রোগীদের।

জানা গেছে, গাজীপুরে মোট আটটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও এর মধ্যে একটি এখনো প্রশাসনিক অনুমোদন পায়নি। বাকি সাতটি কেন্দ্রেই রয়েছে ব্যাপক জনবল ঘাটতি। এসব কেন্দ্রে অনুমোদিত ৫৮টি পদের মধ্যে ৩২টিই শূন্য। ১৪টি মেডিকেল অফিসার পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন।

তাদের মধ্যে একজন প্রেষণে এবং আরেকজন দুই বছর ধরে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। সাতজন ফার্মাসিস্টের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন চারজন। ১৬টি পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) পদের অর্ধেকই শূন্য। সাতটি অফিস সহকারী পদের মধ্যে রয়েছেন মাত্র দুজন এবং সাতটি অফিস সহায়ক পদের মধ্যে কর্মরত আছেন একজন। এছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত সাতজন করে সহকারী নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট, ওয়ার্ড বয় ও আয়া দীর্ঘদিন ধরে বেতন পাচ্ছেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালগুলোতে শয্যা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ডরমেটরি, বিদ্যুৎ সংযোগ, আধুনিক অস্ত্রোপচার কক্ষ, ওয়ার্ড ও কেবিনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। তবে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এসব সুবিধার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। জেলার প্রায় সব মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেই একই চিত্র দেখা গেছে।

কামারজুরী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট রওশন আরা জানান, সেখানে পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও জটিল রোগীদের গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, কেন্দ্রে ওষুধের সংকট রয়েছে এবং প্রসূতিদের সিজারিয়ান ডেলিভারির কোনো ব্যবস্থা নেই।

পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সামান্তা ইসলাম বলেন, কেন্দ্রটিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও ওষুধপত্রের ঘাটতি রয়েছে। বৃষ্টি হলে কেন্দ্রের সামনে পানি জমে যায়। ল্যাব টেকনোলজিস্ট থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট সরবরাহ করা হয়নি। এছাড়া বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও নেই।

গৃহিণী শাহরিনা সুলতানা শিমু বলেন, আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ পাওয়া যেত, কিন্তু এখন চিকিৎসক ওষুধের নাম লিখে দিলে বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী জানান, গাজীপুরের আটটি ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে মেডিকেল কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কারিগরি পদে জনবল সংকট রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী, ওষুধপত্র ও সেবাপ্রদান কিটসেরও অভাব রয়েছে। এসব কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং তখন নিয়মিত পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রদান সম্ভব হবে।