কাপাসিয়ায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা, ৭ দিনে শনাক্ত ৭৪

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জ্বর আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভোগা রোগীর পাশাপাশি দুই-তিন সপ্তাহ ধরে জ্বর না কমার অভিযোগ নিয়েও অনেকে হাসপাতালে আসছেন। জ্বরের সঙ্গে পেটব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গও দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছেন অনেকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৬৩ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ জনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন।

হিসাব অনুযায়ী, ওই সাত দিনে পরীক্ষা করা রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্তের হার প্রায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে এ হার কাপাসিয়ার মোট জনসংখ্যার মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার নয়; নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে পরীক্ষা করা ব্যক্তিদের ফলের ভিত্তিতে এ হিসাব পাওয়া গেছে।

সাত দিনের তথ্য বিশ্লেষণে শেষ দুই দিনের চিত্রও উল্লেখযোগ্য। ১৭ সেপ্টেম্বর ৫৪ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করে ১২ জনের পজিটিভ ফল পাওয়া যায়। পরদিন ৮২ জনের পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ১৪ জনের। অর্থাৎ ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর দুই দিনে ১৩৬টি পরীক্ষার মধ্যে ২৬টি পজিটিভ এসেছে।

এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর ৫০ জনের পরীক্ষায় ১২ জন, ১৩ সেপ্টেম্বর ৪৮ জনের মধ্যে ৮ জন, ১৪ সেপ্টেম্বর ৪৩ জনের মধ্যে ৯ জন, ১৫ সেপ্টেম্বর ৪৮ জনের মধ্যে ১১ জন এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ৩৮ জনের পরীক্ষায় ৮ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকের জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। দরদরিয়া গ্রামের রবিন আহমেদ (২৫) জানান, ১৮ দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন তিনি। পরে গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হন।

আড়াল গ্রামের রমজান বলেন, দুই দিন ধরে জ্বর থাকলেও প্রাথমিক চিকিৎসায় না কমায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একইভাবে বীর উজলী গ্রামের রইস উদ্দিন পাঁচ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উত্তর খামের গ্রামের কামাল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার হঠাৎ জ্বর আসে তার। শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা ডেঙ্গু শনাক্ত করেন।

বীর উজলী এলাকার শিক্ষার্থী আনাছ জানায়, পাঁচ-ছয় দিন জ্বরে ভোগার পর হাসপাতালে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। অন্যদিকে তরগাঁওয়ের যোবায়ের হোসেন জ্বরের পাশাপাশি পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, আগের তুলনায় জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কোনো কিছু ঘাটতি নেই।

এম.সি. এইচ
আরও পড়ুন