বাবার কেনা জমিতে মায়ের মরদেহ দাফনে বাধা

গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার কেনা জমিতে মায়ের মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা সফির উদ্দিন। ঘটনার ১৯ ঘন্টা পর সরকারি খাস জমিতে মরদেহ দাফন করেছে ছেলে ও স্বজনেরা। বুধবার (১২ অক্টোবর) উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে বাড়ির পাশেই মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মৃতের ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মণ।

মৃত শ্রী মেনোকা (৬০) শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আকতাপাড়া গ্রামের শ্রী গোপালের স্ত্রী। গত মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। তিনি আদিবাসী জাতের বাসিন্দা।

মৃতের ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মণ বলেন, প্রায় ৪-৫ বছর আগে সফির উদ্দিনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে জমি সাব-কাবলা দলিল করে দেয়নি। মা মারা গেলে ক্রয়কৃত জমিতে দাফন করতে গেলে সফির উদ্দিন বাধা দেয়। স্থানীয় ব্যাক্তিরা ও জনপ্রতিনিধি একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান করতে পারেননি। পরে  ১৯ঘন্টা পর বাড়ির পাশেই সরকারি খাস জমিতে তার দাফন করা হয়।

তিনি আরো জানান, মিউটেশন (খারিজ) জটিলতার কারণে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নিতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে জমির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল। তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে বিক্রেতা সফির উদ্দিন বিষয়টি অস্বীকার করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সফির উদ্দিন বলেন, আমার জমিতে আদিবাসী (মান্দাই) মহিলাকে দাফন করতে দেব না। তাদের কাছে আমি কোনো জমি বিক্রি করিনি এবং কোনো টাকাপয়সাও নেইনি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, সফির উদ্দিনকে আমরা অনেক বুঝিয়েও কোনো সমাধান করতে পারিনি এবং নিহত ওই আদিবাসী বৃদ্ধাকে দাফন করা সম্ভব হয়নি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ওই ব্যাক্তিকে বুঝানো হলেও তিনি দাফন করতে দেননি। পরে নিহতের স্বজনেরা সরকারি খাস জমিতে তাকে দাফন করেন।