সুন্দরবনে সক্রিয় কুখ্যাত ডাকাত দল ‘দুলাভাই বাহিনী’র বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাহিনীর প্রধানসহ আরও দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। তবে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৬ জুন)।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সুন্দরবনে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।
কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে টানা দুই দিন কোস্টগার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা এবং স্টেশন নলিয়ানের সদস্যরা ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে ডাকাতদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করে কোস্টগার্ড সদস্যরা থামার সংকেত দেন। কিন্তু সংকেত উপেক্ষা করে ডাকাতরা কোস্টগার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি বোটে আগুন ধরে যায় এবং অপর বোটটি ডুবে যায়।
বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম ও সদস্য শওকত সরদারকে আটক করা হয়। পরে তাদের দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া অন্য ডাকাতদের ধরতে কোস্টগার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে ইসরাফিল হাওলাদার নামে আরও এক ডাকাতকে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাকেও চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযান শেষে আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন এবং একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ড জানায়, আটক রবিউল ইসলাম (৫০) ও নিহত শওকত সরদার (৫৫) খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা। অপর আটক ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা।
আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ কয়রা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া নিহত শওকত সরদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্যও কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।