সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২৮০টি মৌ-বাক্স পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে রানি মৌমাছিসহ বিপুলসংখ্যক মৌমাছি মারা যাওয়ার পাশাপাশি মৌচাক ও মধু নষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম নামের এক মৌচাষি প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার হরিণনগর গ্রামের মৌচাষি মো. জাহাঙ্গীর আলম মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মাগুরা জেলা থেকে রানি মৌমাছি নিয়ে কলারোয়া উপজেলার মীরডাঙ্গা গ্রামে আসেন। সেখানে ইমামুল ইসলামের আমবাগানে অস্থায়ী মৌ-খামার স্থাপন করে ২৮০টি মৌ-বাক্স বসান। মধু সংগ্রহের জন্য তিনি নিয়মিত বাক্সগুলোর পরিচর্যা ও পাহারা দিচ্ছিলেন।
গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আমবাগানে থাকা ২৮০টি মৌ-বাক্স পাশের দুটি পুকুরে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সকালে খামারে গিয়ে জাহাঙ্গীর আলম দেখতে পান, বাক্সগুলো পানিতে ডুবে গেছে। এতে রানি মৌমাছিসহ বিপুলসংখ্যক মৌমাছি মারা যায় এবং বাক্সগুলোও নষ্ট হয়ে যায়।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুক্রবার সারাদিন আমবাগানে মৌ-বাক্স স্থাপন করার সময় কেউ তাঁকে কিছু বলেননি। কিন্তু শনিবার সকালে উঠে তিনি দেখেন, তাঁর সব মৌ-বাক্স পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু মৌ-বাক্স নয়, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও জীবিকার পথও ধ্বংস করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, প্রতিটি বাক্সে থাকা মৌমাছির বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার ৫০০ টাকা। সে হিসাবে ২৮০টি বাক্সে থাকা মৌমাছির মূল্য প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর বাইরে গত কয়েক দিনে খাদ্য ও পরিচর্যা বাবদ আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। শত্রুতার জেরে তাঁর সবকিছু নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জমির মালিক ইমামুল ইসলাম, মহিদুল ইসলাম ও ইমরান হোসেনসহ এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
বাংলাদেশ বিকিপার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ আফজাল এ ঘটনায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কলারোয়ায় মৌ-খামারের সব মৌ-বাক্স পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। দুষ্কৃতকারীরা যেই হোক, তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান রিমু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটেছে। ভুক্তভোগী ১২ সেপ্টেম্বর থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।