মোরেলগঞ্জে গৃহিনীর রহস্যময় মৃত্যু, স্বজনদের দাবি হত্যা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে রুমানা আক্তার (৩০) নামের এক গৃহিণীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে নিজ ঘর থেকে রুমানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে মৃত স্ত্রীকে ভ্যানে করে মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে আসেন ভ্যানচালক রহমান খানসহ আরও দুইজন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। আর নিহতের স্বামী রহমান খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

নিহত রুমানা আক্তার মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের সোমাদ্দারখালী গ্রামের ইউনুছ হাওলাদারের মেয়ে। আটক স্বামী একই উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রামের জয়নাল খানের ছেলে। প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের মধ্যে বিয়ে হয়। রুমানার ৪ বছরের এক ছেলে রায়হান ও ১৩ বছরের মেয়ে হালিমা ইয়াসমিন রুকাইয়া রয়েছে।

রুমানার বাবা ইউনুছ হাওলাদারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই রহমান খান স্ত্রী রুমানা আক্তারকে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। তার মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করে হাসপাতালে নিয়ে এসে বলছে আত্মহত্যা করেছে। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নিহতের পিতা।

মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়া হক বলেন, গৃহিণী রুমানাকে মৃত অবস্থায় তার স্বামীসহ আর ২ জন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে, তারা মৃতদেহ হেফাজতে নেয়।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রহমান খানকে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বলা যাবে না, এটি হত্যা কিনা। থানায় একটি অপমৃত মামলা দায়ের হয়েছে।