কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিজের দুই দিন বয়সী ছেলেসন্তানকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে চুরির নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে বাবা মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পুলিশের তদন্তে নবজাতক বিক্রির বিষয়টি সামনে আসে।
গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বহলবাড়িয়া এলাকা থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে মায়ের হেফাজতে দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন রোববার দুপুরে মিরপুর থানায় একটি জিডি করেন। এতে তিনি দাবি করেন, মিরপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্মের পর তাঁর দুই দিন বয়সী ছেলেসন্তানটি চুরি হয়ে গেছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে মিরপুর থানা-পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে অসংগতি দেখা দিলে তাঁদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে নবজাতক বিক্রির ঘটনা সামনে আসে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির বাবা আলাউদ্দিন ও মা সিমা খাতুনসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সম্মতিতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে নবজাতকটিকে বিক্রি করা হয়। উপজেলার নওদা খাদিমপুর গ্রামের আনিস নামের এক পল্লিচিকিৎসক শিশুটিকে নেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আনিস পুলিশকে জানান, নিজের কোনো সন্তান না থাকায় লালন-পালনের উদ্দেশ্যে তিনি আলাউদ্দিনের কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, নবজাতকটিকে আরও বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে চুরির নাটক সাজানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর তদন্ত করে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে মায়ের হেফাজতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নবজাতক বিক্রির পর চুরির নাটক সাজিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা শাহীন খসরু বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তাঁরাও তদন্ত করছেন। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।