দলীয় সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করেই চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন আলী মুনছুর বাবু। তিনি দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী মুনছুর বাবু চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগার টগরের ছোটো ভাই। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আনারস প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, সংসদ সদস্য আলী আজগার টগর নৌকা প্রতীক নিয়ে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদ সদস্যর নির্দেশে চলেন তার ভাই ও আত্মীয়স্বজনরা। ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পান দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু। আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আলী আজগার টগরের ভাই আলী মুনছুর বাবু। সংসদ সদস্যের ইন্ধনে তিনি উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন।
আলী মুনছুর বাবু জানান, রানিং চেয়ারম্যান আছি বলেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। গতবার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলাম। যারা চেয়ারম্যান ছিল তারা সবাই ভোট করছে, তাই আমিও এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়াম্যান প্রার্থী হয়েছেন নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার। তিনি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের আপন ভাইয়ের ছেলে ও জেলা যুবলীগের আহবায়ক।
নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার বলেন, গতবার উপজেলা নির্বাচনে ভোট করেছিলাম। সেবার এমপি সাহেব আমার বিপক্ষে ছিল, এবারও বিপক্ষে রয়েছেন। মাঠের পরিস্থিতি ও জনগনের চাপে ভোট করছি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত মৌখিক। গণমাধ্যমে এসেছে। কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহবান করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওখানে সিদ্ধান্ত হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বিষয়টি বোঝা যাবে। কারা থাকবে আর কারা থাকবে না।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান আশাদুল হক বিশ্বাস, জেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহমান। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মামুন-অর-রশীদ আঙ্গুর, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম কাবা, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী শামীম হোসেন মিজি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সাহাজাদী মিলি, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন্নাহার কাকলী ও মাসুমা খাতুন।
দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এস.এ.এম.জাকারিয়া আলম ও দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট আবু তালেব বিশ্বাস। ভাইস চেয়ারম্যান পদে শফিউল কবির ইউসুফ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাহিদা খাতুন ও তানিয়া খাতুন।