চুয়াডাঙ্গায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব। শীতকালীন রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে প্রতিদিনই হাসপাতালে ছুটছেন শত শত মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সীমিত শয্যার কারণে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। জায়গা না পেয়ে অনেক রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
গত ১০ দিনে সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৪০০ জন রোগী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত নতুন ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে শতাধিক রোগী।
এ ছাড়া জরুরি বিভাগ ও আন্তর্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও প্রায় ৪ শতাধিক মানুষ। এর আগে জানুয়ারি মাসের ১৫ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ৯ দিনেই ভর্তি হয়েছিলেন ৩৮০ জন রোগী।
হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছেন একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, দুই থেকে তিনজন শিক্ষানবিশ নার্স ও একজন স্বেচ্ছাসেবী। স্বল্প জনবল নিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা দিতে গিয়ে তাদেরও পড়তে হচ্ছে চাপের মধ্যে।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামের মিনি খাতুন তার দুই বছরের মেয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। তিনি বলেন, হঠাৎ ঠান্ডা লাগার পর মেয়েটার ডায়রিয়া শুরু হয়। হাসপাতালে এসে প্রথমে বেড পাইনি, বারান্দায় থাকতে হয়েছে। পরে একটা বেড পেয়েছি। ডাক্তার বলেছেন, আরও কয়েক দিন থাকতে হবে।
একই ওয়ার্ডে ভর্তি আরিফুল হোসেন নামে এক বৃদ্ধ বলেন, কয়েকদিন ধরে পেটে ব্যথা করছিল। হঠাৎ বমি আর ডায়রিয়া শুরু হলে আজ হাসপাতালে আসি। ডাক্তার ভর্তি থাকার কথা বলেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, শিশুদের ডায়রিয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে রোটা ভাইরাস। শুধু ডায়রিয়া হলে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেওয়া যায়। তবে ডায়রিয়ার সঙ্গে বমি বা পানি শূন্যতা দেখা দিলে অবশ্যই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই ফুটানো সুপেয় পানি পান করতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের কোনো সংকট নেই।
সেতু ভেঙে নিজ বাড়িতে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান
৩৩% কোটার প্রতিবাদে গাজীপুরে রেলপথ অবরোধ
