রিমালে সুন্দরবন অবকাঠামোর ক্ষতি ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা

দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা সুন্দরবনের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। এসময় লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে সুন্দরবন। এতে সুন্দরবন অবকাঠামোর প্রায় ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবনের বনসংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো।

সোমবার (৩ জুন) দৈনিক খবর সংযোগকে তিনি বলেন, জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুন্দরবনের মিষ্টি পানির আধার শতাধিক পুুকুর লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

বনবিভাগ জানায়, বনবিভাগের বিভিন্ন স্টেশনের কাঠের জেটি, বনরক্ষীদের ঘর, স্টেশন ফাঁড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ঘূর্ণিঝড়ের সময় ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুন্দরবনের অভ্যন্তরের মিষ্টি পানির আধার শতাধিক পুকুর লবণ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে বন্যপ্রাণি ও বনরক্ষীদের খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নামের মোহসীন হোসেন দৈনিক খবর সংযোগকে বলেন, টাকার অঙ্কে বনের ক্ষতি নির্ণয় করা সম্ভব নয়। পশ্চিম বিভাগে ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার অবকাঠামোয় ক্ষতি হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে জেটি, ট্রলার, ওয়াচ টাওয়ার, স্টেশন ও স্টেশনের বিভিন্ন ঘর।

মিহির কুমার দো আরও বলেন, সুন্দরবন পশ্চিম ও পূর্ব বনবিভাগ মিলে প্রায় ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের পর ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক ধারণা- ঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাসের কারণে গাছপালার চেয়ে বন্যপ্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কারণ দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা ধরে সুন্দরবনে ১০ থেকে ১২ ফুট জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত ছিল। এসময় নদ-নদীতে ঘূর্ণি বাতাসের সঙ্গে প্রচণ্ড ঢেউ ছিল। ফলে হরিণসহ সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছে গাছে অসংখ্য পাখির বাসা ছিল। ডিম ছিল সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। সকল প্রাণীই তাদের আবাসস্থল হারিয়েছে।