সুন্দরবনে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ‘বাঘের টিলা’ নির্মাণ

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ এএম

বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে সাতটি উঁচু ‘বাঘের টিলা’ নির্মাণ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে এসব টিলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে খনন করা হয়েছে মিঠা পানির পুকুর।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনে অনেক বন্যপ্রাণী প্রাণ হারায়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে সুন্দরবনের ভেতরে উঁচু মাটির প্ল্যাটফর্ম বা ‘বাঘের টিলা’ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগে পাঁচটি ‘বাঘের টিলা’ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা, কচিখালী ও কোকিলমণি এবং চাঁদপাই রেঞ্জের হারবাড়িয়া ও চরপুটিয়ায় টিলাগুলো স্থাপন করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিতীয় পর্যায়ে শরণখোলা রেঞ্জের সুপ্তি এবং চাঁদপাই রেঞ্জের মারা পশুর এলাকায় আরও দুটি ‘বাঘের টিলা’ নির্মাণের কাজ গত বছরের ডিসেম্বরে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি টিলা নির্মাণে গড়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। টিলার চারপাশে বাঁধ উঁচু করে গভীর পুকুর খনন করা হয়েছে, যাতে বৃষ্টির পানি জমে থাকে এবং বন্যপ্রাণীরা পান করতে পারে। জোয়ারের সময় প্রাণীরা উঁচু পাড়ে আশ্রয় নিতে পারবে।

সরেজমিনে সুন্দরবনের সুপ্তি ও কটকা এলাকায় দেখা গেছে, বড় আকারের পুকুরের পাশে প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার বিশাল মাটির টিলা তৈরি করা হয়েছে। দুর্যোগকালীন সময়ে এসব টিলায় বহু বন্যপ্রাণী আশ্রয় নিতে সক্ষম হবে।

কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ ফরেস্টার মো. মতিউর রহমান জানান, ‘বাঘের টিলা’গুলো এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যেন দুর্যোগের সময় বাঘ, হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী সহজেই ওপরে উঠে নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাট বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হয়, যা বন্যপ্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অতীতে দুর্যোগে বহু প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণেই বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় বাঘ ও তাদের শিকার প্রজাতির নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে ‘বাঘের টিলা’ নির্মাণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত দুই বছরে চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জে পুকুর খননের পাশাপাশি সাতটি টিলা নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় অন্তত আরও ২০টি টিলা নির্মাণ প্রয়োজন এবং এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

AHA
আরও পড়ুন