টানা দুদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি পুরোনো লোহার সেতু ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এতে দুই পাড়ের অন্তত এক হাজার পরিবারের মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গেলে সেতুটি সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে যায়। এ সময় দুই পাড়ের বেশিরভাগ মানুষ নিরাপদে সরে যেতে পারলেও সেতুর মাঝখানে থাকা দুই শিশু ও দুই যুবক তীব্র স্রোতে ভেসে যান। পরে স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক চেষ্টায় চারজনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, বহু বছরের পুরোনো এই সেতুর ওপর দিয়ে অতীতেও পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হয়েছে। তবে এবার পানির চাপ ছিল অনেক বেশি। প্রবল স্রোতের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে সেতুটি ধসে নদীতে তলিয়ে যায়।
সন্ন্যাসীভিটা এলাকার বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, ‘আমার চোখের সামনেই সেতুটি নদীতে তলিয়ে যায়। পানির স্রোত এতটাই বেশি ছিল যে কিছুই করার সুযোগ ছিল না। পরে আমরা কয়েকজন ভেসে যাওয়া চারজনকে উদ্ধার করি।’
একই এলাকার কুব্বাত আলী বলেন, ‘রাতে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই নদীর পানি বাড়ছিল। দুপুর ১২টার পর সেতুটি ভেঙে নদীতে তলিয়ে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দা তালেব আলী জানান, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় অন্তত ৪০০ পরিবারের মানুষের নদীর ওপারে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি এপারের আরও প্রায় ৬০০ পরিবারের মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। দ্রুত সেখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।’
এদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর বাতকুচি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার এবং ভোগাই নদীতে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদী ও শ্রীবরদী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় শেরপুর পয়েন্টে ২৯ মিলিমিটার এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে, দুপুরের পর থেকে পানি দ্রুত নামতে শুরু করায় আপাতত বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে না।’
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেক বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়েছি। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’