আর্জেন্টিনার হেরে যাওয়া ও স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, অভিমানে স্বামীর আত্মহত্যা

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ফুটবল খেলা দে‌খে দেরি‌তে বা‌ড়ি ফেরায় স্ত্রী‌র স‌ঙ্গে ঝগড়া হওয়ার পর সুমন হোসেন (৩০) না‌মের এক যুব‌কের গলায় ফাঁস দেওয়া মর‌দেহ উদ্ধার ক‌রে‌ছে পু‌লিশ। তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে ভেড়ামারা উপজেলার বা‌হিরচর ইউনিয়‌নের ১৬ দাগ দ‌ক্ষিণপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

সুমন হোসেন ওই এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন। তার পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুটি সন্তান আছে। 

পু‌লিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রবিবার দিবাগত শেষ রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পে‌নের খেলা দেখে দেরিতে বাড়ি ফেরেন সুমন। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। পরে সোমবার সকালে প‌রিবা‌রের সদস‌্যরা ঘরের ভেতরে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। 

একদিকে পারিবারিক মনমালিন্য ও অপর দিকে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের হার এই দুই ঘটনা মিলে তার মনে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

সুমনের স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ফুটবল খেলা দে‌খে রাত ৪টার দি‌কে বা‌ড়ি‌তে ফে‌রে সুমন। তাঁ‌কে শুধু ব‌লে‌ছিলাম, এখন তোমার আসার সময় হ‌লো? তখ‌নই আবার বা‌ড়ি থে‌কে মা‌ঠের দি‌কে বের হ‌য়ে যায় সে। এরপর আমি মোবাইল ফোন দেখ‌তে দেখ‌তে ঘুমি‌য়ে প‌ড়ি। ভোররা‌তে হঠাৎ ঘুম ভে‌ঙে দেখ‌তে পাই, ঘ‌রের আড়ার সা‌থে সুম‌নের মরদেহ ঝ‌ুল‌ছে।

প্রত‌্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জ‌লিল ব‌লেন, ‘তখন আনুমা‌নিক সকাল সা‌ড়ে ৫টা হ‌বে। আমি ফজ‌রের নামাজ শেষ ক‌রে বা‌ড়ি‌তে ফির‌ছিলাম। এ সময় হঠাৎ সুম‌নের বা‌ড়ি‌ থে‌কে চিৎকারের শব্দ শু‌নে ভেত‌রে যাই। সেখানে দে‌খি, গলায় ফাঁস নি‌য়ে ঘ‌রের আড়ার স‌ঙ্গে ঝুল‌ছে সুম‌ন। তাৎক্ষ‌ণিকভাবে আমি ও আরেকজন মি‌লে সুমন‌কে নামাই। এর পর স্থানীয় চি‌কিৎসক তাঁ‌কে মৃত ঘোষণা ক‌রেন।’

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান ব‌লেছেন, ‘সুমন না‌মের এক যুবক আত্মহত‌্যা ক‌রে‌ছেন। ত‌বে, কারণ নি‌শ্চিত ক‌রে বলা যা‌চ্ছে না। জান‌তে পে‌রে‌ছি, খেলা দে‌খে আসার পর স্ত্রীর স‌ঙ্গে মনোমা‌লিন‌্য হ‌য়ে‌ছিল। ওই যুবক আর্জেন্টিনার সমর্থক ছি‌লেন। প্রিয় দলের হেরে যাওয়া ও বাসায় এসে স্বজনদের সাথে মনমালিন্য এই দুইয়ের কারনে তার মধ্যে কোন অভিমান সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারনা করছি। তবে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। 

MCH
আরও পড়ুন