গ্রামের চায়ের দোকান মানেই চায়ের কাপে চুমুক, আড্ডা, রাজনীতি কিংবা খেলাধুলার আলোচনা। কিন্তু শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের মাথাফাটা বাজারের একটি চায়ের দোকানে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সেখানে চায়ের সঙ্গে জমে বই পড়ার আসর। দোকানের এক কোণে সাজানো বইয়ের তাক যেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের জন্য এক ছোট্ট পাঠাগার।
স্থানীয় উদ্যোক্তা তৌফিকুর রহমান খোকন নিজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘পথ পাঠাগার’। ২০২৩ সালে অল্প কয়েকটি বই নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই পাঠাগারে বর্তমানে রয়েছে দেড় শতাধিক বই। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের মানুষ এখানে এসে বই পড়েন। কেউ চায়ের ফাঁকে কয়েক পৃষ্ঠা পড়েন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় ধরে বইয়ের সঙ্গেই কাটিয়ে দেন।
উদ্যোক্তা তৌফিকুর রহমান খোকন জানান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁর বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়। পরে তিনি উপলব্ধি করেন, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে তরুণদের বই পড়ার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। সেই ভাবনা থেকেই নিজের চায়ের দোকানেই সবার জন্য উন্মুক্ত এই পাঠাগার গড়ে তোলেন। ভবিষ্যতে আরও বই সংগ্রহ করে পাঠাগারটি সমৃদ্ধ করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
পাঠাগারের নিয়মিত পাঠক রাসেল মিয়া বলেন, গ্রামের একটি চায়ের দোকানে এমন উদ্যোগ সত্যিই ব্যতিক্রমী। এখানে এসে বই পড়তে ভালো লাগে। এতে অনেক তরুণ বইয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, চায়ের দোকানে পাঠাগার গড়ে তোলা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে মানুষ আড্ডার পাশাপাশি জ্ঞানচর্চার সুযোগ পাচ্ছেন, যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।
স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও নতুন বইয়ের সংযোজন হলে ‘পথ পাঠাগার’ শুধু একটি চায়ের দোকানের পাঠাগার হিসেবেই নয়, বরং গ্রামীণ জনপদে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।