শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরি, রঙ ও সাজসজ্জার কাজ। এবার নালিতাবাড়ী উপজেলায় ৪১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী পৌরসভায় ১৫টি এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে নন্নী ইউনিয়নে ৩টি, বাঘবেড় ইউনিয়নে ৬টি, রাজনগরে ৩টি, নয়াবিলে ২টি, রামচন্দ্রকুড়ায় ১টি, কাকরকান্দিতে ২টি, রূপনারায়ণকুড়ায় ১টি, মরিচপুরানে ৪টি, যোগানিয়ায় ২টি এবং কলসপাড়ে ২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মৃৎশিল্পীরা প্রতিমায় রঙ ও সাজসজ্জার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতিও চলছে।
সরেজমিনে কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও প্রতিমায় রঙয়ের কাজ চলছে, আবার কোথাও চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা। পূজাকে কেন্দ্র করে আয়োজকদের মধ্যেও ব্যাপক ব্যস্ততা দেখা গেছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রস্তুতি।
এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ৮ অক্টোবর নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য তিনি অনুরোধ জানান। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি এসআরবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।