জামালপুরে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

জামালপুরের মেলান্দহে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের বুরুঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। তবে চালক পালিয়ে গেছেন।

নিহতরা হলেন- ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারী এলাকার মোরশেদ আলম (২৫), তাঁর স্ত্রী ইকরামা (২৩) এবং তাঁদের আট মাস বয়সী মেয়ে রিফা। অন্যজন হলেন মেলান্দহ উপজেলার বকুলতলা এলাকার শওকত হাসান লিখন (৪৫)। তিনি মোটরসাইকেল চালক ছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

আহতরা হলেন- শিহাটা এলাকার মৃত লেঞ্জা মিয়ার ছেলে হযরত আলী (৩৫) ও মো. শাকিল মিয়া (১৬)।

স্থানীয়রা জানান, সকালে মেলান্দহের শিমুলতলী এলাকা থেকে একটি অটোরিকশা জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে জামালপুর থেকে মেলান্দহের দিকে যাচ্ছিল একটি মোটরসাইকেল। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক প্রথমে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। পরে ট্রাকটি অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। আহত হন মোটরসাইকেলের আরোহী ও অটোরিকশার চালকসহ দুজন।

দুর্ঘটনায় মোরশেদ আলম ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা মেলান্দহের মালঞ্চ এলাকায় সেটি আটক করেন। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে যান।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি স্থানীয়রা আটক করেছেন। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। তাঁকে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।