বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াতের সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার এলাঙ্গী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় সামিউল ইসলামকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহতরা হলেন- এলাঙ্গী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি শৈলমারী গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে আইয়ুব আলী (৫০), তছের আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৪৯), তারাকান্দি গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে জিয়াউর রহমান (৪৫), আলাউদ্দিনের ছেলে জিয়াউর রহমান ঠান্ডু (৪৩), রাঙ্গামাটি গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে আবু বক্কার (৪৮), ছোহরাব হোসেনের ছেলে সামিউল ইসলাম (৩০) ও নলডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে রবিউল ইসলাম (৪৩)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানা যায়, শনিবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা এলাঙ্গী বাজার এলাকায় হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আব্দুল করিম বাদী হয়ে ধুনট থানায় বিএনপির ১৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া-৫ আসনের এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব দবিবর রহমান অভিযোগ করে বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে ব্যাহত করতেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এলাঙ্গী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আইয়ুব আলী বলেন, নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। হামলা বা মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।
এদিকে মামলার আসামি ও এলাঙ্গী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান পলাশ বলেন, বাজারে অনেক লোকজন ছিল। কথা-কাটাকাটি থেকে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তবে আমি তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।