সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর সাতজনের মরদেহ আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে আসছে। বিকেল ৪টার দিকে মরদেহগুলো নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট দেশে পৌঁছাবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী মারা যান। পরে ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষা করে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে নওগাঁর সাতজনের মরদেহ দেশে পাঠাতে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। মরদেহগুলো নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দিনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার মার্কাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতের পরিবারগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে, যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে আসতে পারে। এখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজনের মরদেহ আসছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইউএনও জানান, সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের ঘটনায় শুরুতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহতের খবর পাওয়া যায়। তবে আত্রাই উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান।