প্রথমবারের মতো দেশীয় প্রযুক্তিতে বাটন মাশরুম চাষে বড় সাফল্য

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দেশীয় বীজ ও প্রাকৃতিক শীতল পরিবেশে বাটন মাশরুম উৎপাদনে বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ নিজপাড়া গ্রামে প্রোটিনা রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও বাহারী এগ্রোটেকের যৌথ উদ্যোগে এই উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খামার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রোটিনা রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাসুদা ইসলাম এই সাফল্যের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। 

তিনি জানান, তারা নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে বীজ উৎপাদন, কম্পোস্ট সার তৈরি এবং প্রাকৃতিক উপায়ে বাটন মাশরুম চাষে সফল হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক মাশরুমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানান। 

তিনি বলেন, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মাশরুমে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ও মিনারেল রয়েছে, যা দেহের ইমিউনিটি বাড়াতে এবং ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বাহারী এগ্রোটেকের পার্টনার প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিবছর ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে প্রায় শত কোটি টাকার বাটন মাশরুম ও বীজ আমদানি করা হয়। দেশীয় প্রযুক্তিতে এই চাষ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে পারলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষক মো. সালাউদ্দিন, প্রকৌশলী মো. ফাহিম রহমানসহ সংশ্লিষ্ট গবেষক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।