রামিসা হত্যা মামলা

সোহেল-স্বপ্না দম্পতির বিচার শুরু ১ জুন

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর বর্বরোচিতভাবে হত্যার মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১ জুন এই মামলার অভিযোগ গঠন (চার্জ গঠন) বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (২৪ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সাকলীন আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন। এর আগে দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য এই ট্রাইব্যুনালে বদলির নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। সে জানায়, ১৯ মে সকালে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের রুমে ডেকে নেয়। এরপর বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সোহেল। ধর্ষণের ফলে রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে এবং ঠিক ওই সময় তার মা দরজায় কড়া নাড়লে আতঙ্কিত হয়ে সোহেল রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; সোহেল ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি বালতিতে লুকিয়ে রাখে এবং মরদেহ শয়নকক্ষের খাটের নিচে ঠেলে দেয়। জবানবন্দিতে সে স্বীকার করে, ঘটনার সময় সে ইয়াবা সেবন করেছিল।

নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করা হয় এবং পরদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের মাত্র ৫ দিনের মাথায় পুলিশ তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করে।

সরকারের পক্ষ থেকে এই  মামলার বিচারকাজ ৫ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিল ও ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।