রাজধানীর আজিমপুর থেকে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। আট মাস বয়সী এ শিশু অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফাতেমা আক্তার নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শিশুটি এখন তার মায়ের সঙ্গে আছে।
আজ শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিম ফেরদৌস শিশুটির অপহরণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
র্যাব কর্মকর্তা মুনিম ফেরদৌস বলেন, আজিমপুরে অপহরণের শিকার আট মাসের কন্যাশিশুটির মা একটি মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন। তার বাবা একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ল্যাবে চাকরি করেন। তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না।
তাই আজিমপুরের এ বাসায় বাবার যাতায়াত ছিল খুবই কম।
মুনিম ফেরদৌস বলেন, গ্রেপ্তার ফাতেমা আক্তারকে শিশু অপহরণের ‘মাস্টারমাইন্ড’। সপ্তাহখানেক আগে শিশুটির মায়ের সঙ্গে ফাতেমার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সময় ফাতেমা নিজের প্রকৃত নাম-ঠিকানা লুকান। তিনি শিশুটির মায়ের কাছে নিজের নাম বলেন রাইসা, বাড়ি নওগাঁয়। নিজেকে অবিবাহিত হিসেবেও দাবি করেন।
র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেবল নাম-ঠিকানা মিথ্যা বলেননি ফাতেমা। ফাতেমা শিশুটির মায়ের কাছে দাবি করেন, তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। পাশাপাশি একটি চাকরিও করেন। কিন্তু বেতন নিয়মিত নয়। তাই আর্থিক কষ্টে রয়েছেন। একটি সাবলেট তিনি খুঁজছেন। পরে কয়েক দিন দুজনের মধ্যে মুঠোফোনে কথাও হয়। একপর্যায়ে ফাতেমাকে বাসার একটি কক্ষ সাবলেট হিসেবে দেন শিশুটির মা। এরপর ফাতেমা ওই বাসায় ১৪ নভেম্বর ওঠেন। বাসা ভাড়ার অগ্রিম হিসেবে দুই হাজার টাকাও দেন।
বাসায় ওঠার পর ফাতেমা শিশুটির মাকে বলেছিলেন, তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে চাল নিয়ে আসবে তাঁর এক চাচাত ভাই। পরদিন সকালে চাচাত ভাই পরিচয়ে বাসায় ঢোকেন সুমন, হাসান ও রায়হান। রাতেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, শিশুটির মাকে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে দেন। এরপর ফাতেমা তিন সহযোগীকে নিয়ে শিশুটির মায়ের মুখের ভেতর কাপড় গুজে হাত-পা বেঁধে ফেলেন। এরপর বাসা থেকে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও পাঁচ থেকে ছয় ভরি স্বর্ণ ও দুটি মোবাইল লুট করে নিয়ে যান।
র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, শিশুটিকে অপহরণের পর তারা আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের বাসায় যায়। সেখানকার একটি বাসায় শিশুটিকে রাখা হয়। তবে শিশু অপহরণের খবরটি দ্রুত গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় গ্রেপ্তার ফাতেমা শিশুটির মুক্তিপণের জন্য আর তার মাকে ফোন করেনি।
মুনিম ফেরদৌস আরও বলেন, শিশুটিকে অপহরণের সময় তার মায়ের দুটি মুঠোফোন নিয়ে যান ফাতেমা ও তাঁর সহযোগীরা। ওই মুঠোফোন দিয়ে তিনি অপর সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এরসূত্র ধরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় ফাতেমার অবস্থান শনাক্ত করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার ফাতেমা ১৫ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদপুরে বসবাস করেন। গত বছর ফাতেমার বিয়ে হয়। তাঁর স্বামীর নাম সেলিম হোসেন। তিন থেকে চার মাস আগে মোহাম্মদপুর নবীনগর হাউজিং এলাকায় বসবাস শুরু করেন তারা।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ফাতেমাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, শিশুটিকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল। তবে অপহরণের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছেন কি না, সেটি খতিয়ে দেখছে র্যাব। শিশুটির বাবাকেও র্যাবের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।