কিশোর গ্যাংয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ 

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর আবারও আলোচনায় এসেছে কিশোর গ্যাং। একই সঙ্গে সামনে এসেছে আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয়, কিশোরদের এসব অপরাধী দলে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কতটা ভূমিকা রাখছে? সাম্প্রতিক অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে, কুমিল্লার কিছু কিশোর-তরুণের দল শুধু পাড়া-মহল্লায় মুখোমুখি সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা যোগাযোগ করছে, নিজেদের দলীয় পরিচয় তুলে ধরছে, ছবি-ভিডিও প্রকাশ করছে এবং কখনো কখনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রস্তুতির কথাও অনলাইনে জানাচ্ছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই কিশোর গ্যাংয়ের জন্ম দিচ্ছে, এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ মতামত বরং বলছে, পরিবার, বন্ধুত্ব, স্কুল থেকে বিচ্ছিন্নতা, সামাজিক পরিবেশ, মাদক, অস্ত্রের সহজলভ্যতা এবং স্থানীয় অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগের মতো একাধিক কারণের সঙ্গে অনলাইন পরিবেশ মিলে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম ছিল ১৩ বছরের স্কুলছাত্র। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে হত্যার ঘটনায় কয়েকজন তরুণ ও কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু সূত্র পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। অপ্রতিম বাসা থেকে আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল এবং পরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়ভাবে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং তাদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধান অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিন একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন এবং টিকটক ভিডিও তৈরির আড়ালে অন্য কিশোরদের জড়ো করার চেষ্টা করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। হত্যায় অভিযুক্তদের কয়েকজন টিকটকে ভিডিও পোস্ট করত এবং গ্যাং-সংশ্লিষ্ট পার্টিতে অংশ নিত বলেও জানা গেছে।

এখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সামনে আসে; অপরাধের সরাসরি কারণ হিসেবে নয়, বরং যোগাযোগ, পরিচয় তৈরি, দল গঠন ও নিজেদের কর্মকাণ্ড প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হিসেবে। কুমিল্লার কিশোর গ্যাং নিয়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন দলের সদস্যরা টিকটক ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপের মাধ্যমে একত্র হচ্ছেন। অনেকের হাতে দামি স্মার্টফোন রয়েছে। এসব ফোন দিয়ে ভিডিও তৈরি করে তাতে বিভিন্ন সংলাপ যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। কেবল ভিডিও পোস্ট করাই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কখনো কখনো দলীয় পরিচয় প্রকাশ এবং শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট কুমিল্লার হাউজিং এলাকার কেটিসিসি মাঠ থেকে ‘কিং স্কোয়াড’ নামের একটি কিশোর দলের ২১ সদস্যকে আটক করেছিল পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দলটি ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরে তাদের কাছ থেকে চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল, হকিস্টিক ও রড উদ্ধার করা হয়। এ ধরনের ঘটনা দেখায়, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কখনো কখনো বাস্তব জীবনের সংঘাতের সমন্বয় বা প্রচারের জায়গা হয়ে উঠতে পারে।

অস্ত্রের মহড়াও পৌঁছে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
কুমিল্লায় কিশোর-তরুণদের সশস্ত্র মহড়ার ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের একটি ঘটনায় গোমতী নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক কিশোর-তরুণ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়। পরে সেই মহড়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তখন ‘ক্রাইম সেটআপ’ নামে একটি নতুন কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি তদন্তের কথা জানিয়েছিল।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অপরাধের ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অপরাধটি সংঘটিত হওয়া এক বিষয় নয়। বরং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অপরাধের প্রচার, দলীয় পরিচয়, ভয় প্রদর্শন বা অনুসারী তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না; সেটিই আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন নয়। অনুসন্ধান অনুযায়ী, নগরে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে প্রায় ২০১৫ সালের দিকে। তখন তিন-চারটি দল সক্রিয় থাকলেও ২০২২ সালের দিকে অন্তত ২০টি দলের নাম আলোচনায় আসে। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১২টি হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের নাম এসেছে এবং শতাধিক অপরাধের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২২ সালে ১৫ বছর বয়সী রাবিউল হাসান শাহাদাতকে হত্যার ঘটনাতেও কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের কথা উঠে এসেছিল। দুই পক্ষের বিরোধ, এলাকা নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তি প্রদর্শনের সংস্কৃতি এসব দলের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয় অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অর্থাৎ কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমস্যা নয়। এর সঙ্গে এলাকা, দলীয় আনুগত্য, ক্ষমতার প্রদর্শন, অপরাধী নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় সামাজিক পরিবেশ জড়িয়ে আছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেভাবে ঝুঁকি বাড়াতে পারে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবকে কয়েকটি স্তরে দেখা যায়। প্রথমত- দল গঠন। আগে কোনো কিশোরকে একটি গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে নিয়মিত আড্ডা, পরিচিতি বা স্থানীয় যোগাযোগ প্রয়োজন হতো। এখন অনলাইন গ্রুপ, মেসেঞ্জার বা টিকটক কনটেন্টের মাধ্যমে দ্রুত পরিচয় তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত- পরিচয়ের প্রদর্শন। পোশাক, চুলের ধরন, নির্দিষ্ট নাম, লোগো, ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে একটি দলের আলাদা পরিচয় তৈরি করা যায়।
তৃতীয়ত- শক্তি প্রদর্শন। অস্ত্রের ছবি, দলীয় মহড়া বা প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়ার মতো কনটেন্ট বাস্তব সংঘাতের আগে ভয় দেখানোর কাজে ব্যবহার হতে পারে। চতুর্থত- স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার বা অনুসারীর সংখ্যা একজন কিশোরের কাছে সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণও কখনো ‘কনটেন্ট’ হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে। পঞ্চমত- সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণ। বারবার মারামারি, অস্ত্র প্রদর্শন বা প্রতিপক্ষকে অপমানের ভিডিও দেখলে কিছু কিশোরের কাছে এসব আচরণ স্বাভাবিক বা আকর্ষণীয় মনে হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে এ ধরনের প্রভাব ব্যক্তি ও পরিবেশভেদে ভিন্ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকে সরাসরি সহিংস অপরাধের কারণ হিসেবে প্রমাণ করতে আরও নির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের কিশোরদের ওপর নতুন গবেষণা
২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় কুড়িগ্রাম জেলার ১ হাজার ১৮৩ জন কিশোর-কিশোরীর ওপর জরিপ চালিয়ে বাংলাদেশে TikTok ও Facebook-এর problematic use বা সমস্যাজনক ব্যবহারের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ও আচরণগত বিষয়ের সম্পর্ক পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, সমস্যাজনক TikTok ব্যবহারের সঙ্গে দুর্বল অভিভাবক-সন্তান যোগাযোগ, পর্যাপ্ত সহপাঠী সমর্থনের অভাব, স্কুল ফাঁকি এবং গুরুতর আঘাতের ইতিহাসের সম্পর্ক ছিল। Facebook-এর সমস্যাজনক ব্যবহারের সঙ্গে শারীরিক মারামারিতে জড়িত থাকার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

তবে গবেষণাটি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণ করেনি। অর্থাৎ Facebook বা TikTok ব্যবহার করলেই কোনো কিশোর মারামারি বা অপরাধে জড়িয়ে পড়বে, এমন সিদ্ধান্ত গবেষণা থেকে নেওয়া যায় না। বরং পরিবার, বন্ধু, স্কুল ও আচরণগত ঝুঁকির সঙ্গে সমস্যাজনক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কিশোর অপরাধ মোকাবিলায় শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার মতো একমাত্রিক সমাধান বাস্তব সমস্যার পুরোটা ধরতে পারবে না।

পরিবার ও বন্ধুত্বের ভূমিকা
গবেষণার ফলাফল কিশোর গ্যাংয়ের আলোচনায় পরিবার ও সহপাঠী পরিবেশের গুরুত্বও সামনে আনে। একজন কিশোর যখন পরিবারে পর্যাপ্ত যোগাযোগের সুযোগ পায় না, স্কুল থেকে দূরে সরে যায় কিংবা ইতিবাচক বন্ধুত্বের অভাব অনুভব করে, তখন অনলাইন বন্ধুত্ব বা কোনো দল তাকে পরিচয় ও গ্রহণযোগ্যতার অনুভূতি দিতে পারে। কোনো গ্যাং যদি তাকে ‘ভাই’, ‘দল’ বা ‘স্কোয়াড’-এর অংশ হিসেবে গ্রহণ করে, সেটি তার সামাজিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠতে পারে। এই জায়গাতেই পরিবার, স্কুল ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোরদের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে ইউনিসেফের একটি জরিপেও উদ্বেগের চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রায় ২৯ হাজার শিশু ও তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে করা U-Report জরিপে দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা অতিরিক্ত ভুয়া খবর ও ভুল তথ্যকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানসিক চাপের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করে। প্রায় এক-সপ্তমাংশ বুলিং ও নেতিবাচক মন্তব্যকে এবং আরেকটি প্রায় এক-সপ্তমাংশ ক্ষতিকর বা মন খারাপ করা কনটেন্টকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে।

জরিপে ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা বুলিং ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো ক্ষতিকর আচরণ ঠেকাতে কিছু নিয়ম থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছে। ইউনিসেফও শিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় প্ল্যাটফর্মগুলোর কনটেন্ট মডারেশন ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে পুরো সমস্যার দায় পুরোটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। কুমিল্লার ঘটনাগুলোতেই দেখা যাচ্ছে, অনলাইনের পাশাপাশি রয়েছে বাস্তব জীবনের আড্ডা, দলীয় সম্পর্ক, এলাকা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র, মাদক এবং কখনো স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ। একটি গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও উঠে এসেছে; এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও স্থানীয় অনুসন্ধানের বিষয় এবং প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে যাচাইযোগ্য।

বাংলাদেশ পুলিশও আগে কিশোর অপরাধ দমনে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং গ্যাং সংস্কৃতি যাতে গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে গবেষণায় পরিবার ও সহপাঠী সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে সমস্যাটির সমাধানে পুলিশি অভিযান, পরিবার, স্কুল, স্থানীয় সমাজ, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম সব পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সুপারিশ বিবেচনায় কিশোর গ্যাং মোকাবিলায় কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে- অস্ত্র প্রদর্শন, সহিংসতার হুমকি বা অপরাধ সংগঠনের প্রকাশ্য অনলাইন কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করা; স্কুলে কাউন্সেলিং ও ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থী শনাক্তকরণ জোরদার করা; পরিবারে সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানো; খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় যুব কার্যক্রম বাড়ানো; মাদক, অস্ত্র ও স্থানীয় অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো; গ্রেপ্তার-নির্ভর ব্যবস্থার পাশাপাশি কিশোরদের পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকীকরণের ব্যবস্থা করা; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শিশু সুরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সমন্বয় তৈরি করা।

একটি হত্যাকাণ্ড, বড় একটি সামাজিক প্রশ্ন
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্ত তার নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় এগোবে। কিন্তু ঘটনাটি কুমিল্লার কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি নিয়ে যে প্রশ্ন সামনে এনেছে, তা একটি পরিবারের শোকের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে কিশোরদের হাতে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের যোগাযোগ, সৃজনশীলতা ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে একই ডিজিটাল পরিসর যদি অপরাধী দল গঠন, শক্তি প্রদর্শন, ভয় দেখানো কিংবা সহিংসতাকে ‘স্ট্যাটাস’ বানানোর জায়গায় পরিণত হয়, তাহলে সেটি শিশু ও কিশোর সুরক্ষার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

তাই প্রশ্নটি শুধু ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোর গ্যাং তৈরি করছে কি না’ এখানে আটকে থাকলে চলবে না। বরং দেখতে হবে, কোন সামাজিক ও পারিবারিক পরিস্থিতিতে একটি কিশোর অনলাইন থেকে অফলাইনের অপরাধী নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়ছে, কে তাকে সেখানে টানছে এবং কীভাবে সেই পথটি শুরুতেই বন্ধ করা যায়।

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত