জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও এসএসসি, দাখিল অথবা সমমান পরীক্ষার সনদে নামের ইংরেজি বানানে অমিল থাকলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা গ্রহণে জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।
এ কারণে তথ্য হালনাগাদের সময় এনআইডি ও শিক্ষাসনদে নামের ইংরেজি বানান সম্পূর্ণ এক রাখার নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ইএফটি কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা স্পষ্ট করা হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য সংশোধন, হালনাগাদ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত গত ১৯ জুলাই জারি করা নির্দেশনার বিভিন্ন বিষয়ে রোববার (২ আগস্ট) বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করে অধিদপ্তর। এতে দেশের সব এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সুপারদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য ফরম পূরণ, যাচাই এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
স্পষ্টীকরণে উল্লেখ করা সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হলো—
প্রথম এমপিওভুক্তির তারিখ: সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীর বর্তমান ইনডেক্সে যে প্রথম এমপিওভুক্তির তারিখ উল্লেখ রয়েছে, সেটিই গ্রহণযোগ্য হবে।
নামের বানান: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং এসএসসি, দাখিল বা সমমান পরীক্ষার ইংরেজি সনদে নামের বানান হুবহু একই থাকতে হবে। বানানে কোনো অমিল থাকলে ইএফটি প্রক্রিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
মোবাইল নম্বর: ফরমে যে মোবাইল নম্বর দেওয়া হবে, সেটি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীর নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত (বায়োমেট্রিক) সিম নম্বর হতে হবে।
এনআইডি নম্বর: জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ১০ বা ১৭ ডিজিটে লিখতে হবে। যাদের ১৩ ডিজিটের এনআইডি রয়েছে, তারা নম্বরের শুরুতে জন্মসাল যোগ করে ১৭ ডিজিট পূরণ করবেন।
তথ্য পূরণের ভাষা: ফরমে যেসব তথ্য ইংরেজিতে চাওয়া হয়েছে, সেগুলো ইংরেজিতে এবং যেসব তথ্য বাংলায় চাওয়া হয়েছে, সেগুলো বাংলায় লিখতে হবে।
ব্যাংক হিসাব: বেতন গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব অবশ্যই অনলাইন বা ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হতে হবে।
এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে: এনটিআরসিএর মাধ্যমে সুপারিশ পেয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বা তার পরে যোগদানকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য যোগদানের তারিখই প্রথম এমপিওভুক্তির তারিখ হিসেবে বিবেচিত হবে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ইএফটি ফরমের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, প্রথম ও সর্বশেষ এমপিও শিটের ফটোকপি এবং ব্যাংক চেক বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা অথবা যেকোনো একটি পাতার ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে।
এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের যথাযথভাবে তথ্য পূরণ করে স্বাক্ষরসহ ফরম প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে পূরণ করা ফরমের একটি সফট কপি নিজের কাছে সংরক্ষণ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরে প্রতিষ্ঠান প্রধান তথ্য যাচাই ও প্রত্যয়নের মাধ্যমে অধিদপ্তরের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।