ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘জুলাই ৩৬’ হলের এক আবাসিক ছাত্রীর বিরুদ্ধে অন্তত ১০ জন সহপাঠীর গোপনে আপত্তিকর ছবি ধারণ করে লন্ডনে অবস্থানরত এক যুবকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের কক্ষের ভেতরে তাদের অসতর্ক মুহূর্তের ছবি তুলে ওই যুবকের কাছে পাঠাতেন অভিযুক্ত ছাত্রী। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দেয়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, অভিযুক্ত ছাত্রীর সঙ্গে আবিদ নামের এক লন্ডনপ্রবাসী যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই যুবককে খুশি করার উদ্দেশ্যে তিনি হলের পর্দানশীল ও সাধারণ ছাত্রীদের ব্যক্তিগত এবং আপত্তিকর ছবি গোপনে ধারণ করে পাঠাতেন। সম্প্রতি আবিদের সঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রীর সম্পর্কের অবনতি হলে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে যুবকটি ওই ছবিগুলো হলের অন্যান্য ছাত্রীদের মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে দেন।
ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর ভুক্তভোগীরা আবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন আবিদ তাদের জানান, অভিযুক্ত ছাত্রীই এসব ছবি তাকে পাঠাতেন। এমনকি ছবি না পাঠানোর জন্য নিষেধ করলেও তিনি তা মানতেন না বলে দাবি করেন আবিদ।
হলের শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হলকে তারা নিরাপদ স্থান মনে করেন। এ কারণে সেখানে স্বাভাবিকভাবে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে অভিযুক্ত ছাত্রী তাদের ঘুমন্ত অবস্থার ছবি, টি-শার্ট পরা অবস্থার ছবি কিংবা ওড়না ছাড়া থাকার সময়ের ছবি গোপনে ধারণ করেছেন। এমনকি বোরকা ও নিকাব পরা ছাত্রীদের পর্দার আড়ালের ছবিও তিনি তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অভিযুক্ত ছাত্রী নিজের ভুলের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, কোনো বিকৃত আনন্দ বা খারাপ উদ্দেশ্যে তিনি ছবিগুলো তোলেননি; বরং ‘কমনসেন্সের অভাবে’ এমন কাজ করেছেন। যদিও আবিদ নামের ওই যুবকের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য শোনা গেছে। সেখানে ওই যুবক দাবি করেন, ছবি তুলে অভিযুক্ত ছাত্রী বিকৃত আনন্দ পেতেন।
আবিদ আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ছাত্রীর পাঠানো এসব ছবি শেষ পর্যন্ত আর কতজনের কাছে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে তিনি নিজেও নিশ্চিত নন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।