সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। শূন্যপদ থাকলেও এতদিন বড় পরিসরে পদোন্নতির মাধ্যমে এসব পদ পূরণ করা সম্ভব হয়নি। জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নির্ধারণ নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতাই এর প্রধান কারণ।
২০১৩ সালে দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাদের পূর্ববর্তী চাকরিকাল কীভাবে গণনা করা হবে, জ্যেষ্ঠতা কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হবে কি না—এসব বিষয় নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।
জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধিমালার কয়েকটি ধারা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে কোন শিক্ষক জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির যোগ্য হবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর ফলে প্রধান শিক্ষক পদে বড় পরিসরে পদোন্নতির কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে।
তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে হাইকোর্টের রায়ের কারণে সৃষ্ট আইনি জটিলতার অবসান ঘটে এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে আদালতের রায় পাওয়ার পরপরই প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এরপর তালিকাটি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আপত্তি বা অভিযোগ জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী জানান, গ্রেডেশন তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ইউনিটে তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা তৈরির পর এ বিষয়ে একটি নোটিশ জারি করা হবে।
তিনি জানান, অভিযোগ বা আপত্তি জানানোর জন্য ৩০ কর্মদিবস সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অভিযোগ না এলে গ্রেডেশন তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। এরপর অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তালিকাটি সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠাবে। পিএসসির অনুমোদন পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
বর্তমান নিয়োগবিধিতেও প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের ক্ষেত্রে পদোন্নতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার বিধান রয়েছে।
পদোন্নতির জন্য সহকারী শিক্ষক পদে অন্তত ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাসহ নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। গ্রেডেশন তালিকা, আপত্তি নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ধাপ শেষ হলে কর্মরত যোগ্য সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এসব শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।