বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। আগের নিয়মেই বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হতে আগ্রহী প্রার্থীদের আগের মতোই এনটিআরসিএর নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সনদ অর্জন করতে হবে। এরপর নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে সভায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে এনটিআরসিএর মাধ্যমেই নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। বর্তমান ব্যবস্থার মতোই কেন্দ্রীয়ভাবে নিবন্ধন পরীক্ষা ও মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রার্থীদের একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রথমে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। নির্ধারিত ধাপ সফলভাবে শেষ করা প্রার্থীরা নিবন্ধন সনদ পান। পরবর্তী সময়ে এনটিআরসিএর সুপারিশের ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হলে শিক্ষক নির্বাচনে একটি অভিন্ন প্রক্রিয়া বজায় রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার মূল্যায়নও নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সম্প্রতি এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির কাছে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার আলোচনা সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট মহল এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে। তাদের আশঙ্কা ছিল, প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, এনটিআরসিএর নিয়োগ পদ্ধতি বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এর আগে এনটিআরসিএর কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে শিক্ষক নিবন্ধন, প্রত্যয়ন এবং নিয়োগে সুপারিশের ক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত উঠে আসে। এক পর্যায়ে নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন এনটিআরসিএর মাধ্যমে রেখে প্রত্যয়নপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।
তবে মঙ্গলবারের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হচ্ছে না। আগের নিয়মেই এনটিআরসিএর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষক হতে আগ্রহী প্রার্থীদের এনটিআরসিএর নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে। নিবন্ধনের নির্ধারিত ধাপ সম্পন্ন করে সনদ অর্জনের পর নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।
এনটিআরসিএর পরবর্তী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও সুপারিশের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে মঙ্গলবারের সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে নতুন ব্যবস্থার বিস্তারিত শর্ত ও কার্যকর পদ্ধতি আরও স্পষ্ট হবে।