ইবিতে অগ্নিঝরা কৃষ্ণচূড়া নিয়ে হিমুর আগমন

কোথাও টকটকে লাল কৃষ্ণচূড়া, কোথাও আবার ছেয়ে আছে স্নিগ্ধ বেগুনি রঙের জারুল। চলার পথে এমন চোখ ধাঁধানো ফুলের দেখা মিললে কে বা ফিরে তাকাবে না? আর সোনালু হলুদ রঙের সোনাঝরা সোনালুর ঝলমলে চাহনি গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে যোগ করে দ্বিগুণ মাত্রা। যেনো বিখ্যাত লেখক হুমায়ুন আহমেদ এর বিশেষ চরিত্র হিমু সেজে অভ্যর্থনা দিয়ে যাচ্ছে ডায়না চত্বরে। 

কৃষ্ণচূড়ার আগমনও চোখে পড়ার মতো। নিজ লালিমায় প্রকৃতিকে অভিভূত করে তুলেছে। কোনো রকম দ্বিধা নেই সেই লালের লেলিহান শিখায়। সেইভাবে সুগন্ধি ফুল একে হয়তো বলা যায় না। কিন্তু বৃষ্টি পরবর্তী পিচঢালা পথে ঝরে পড়া রাশি রাশি ফুল এক অদ্ভুত মাদকতা তৈরি করে প্রকৃতিতে। আর সেই মাদকতায় মাতাল হয় প্রকৃতি প্রেমিরা।

সোনালু, জারুল আর কৃষ্ণচূড়ায় চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যে সেজেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। এ যেনো নীল আকাশের নিচে চিত্রশিল্পীর তুলির ছোঁয়ায় রঙিন ক্যানভাস। আর এই ক্যানভাসেই স্বপ্ন বুনেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন, রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবন, প্রশাসনিক ভবন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, খালেদা জিয়া হল এবং শহীদ মিনার ও স্মৃতি সৌধের প্রাঙ্গণে অদ্ভুত মাদকতা ছাড়াচ্ছে এই রক্ত রাঙা কৃষ্ণচূড়া। গাছের নিচে পড়ে থাকা ফুল যেনো প্রাকৃতিক লাল গালিচা। যেই গালিচায় আথিতেয়তা পাচ্ছেন ক্যাম্পাসজুড়ে ঘুরে বেড়ানো প্রকৃতিপ্রেমিরা। 

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরাই নয়, এই অদ্ভুত মাদকতায় আসক্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভ্রমণপিপাসুরাও। দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই তাদের আনাগোনা বাড়তে থাকে ক্যাম্পাস। কেউ কৃষ্ণচূড়া হাতে নিয়ে ফটো ফ্রেমে নিজেকে বন্দি করতে ব্যস্ত আবার কেউ প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্যকে স্মৃতি হিসেবে ধারণ করে রাখতে ভিডিওগ্রাফিতে ব্যস্ত। তরুণ তরুণীদের এক অন্যরকম মিলনমেলায় পরিণত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রান্তর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরিয়ে ডায়নায় আসলেই দেখা মিলবে সোনালু ফুলের। থোকায় থোকায় ঝুলতে থাকা সেই সোনালু যেনো অলঙ্কৃত করে রেখেছে ডায়না চত্বর। কেউ কেউ বলে থাকে এ যেনো ক্যাম্পাসে হুমায়ুন আহমেদের হিমুর আগমন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব মোরশেদ বলেন, এই তপ্ত আবহাওয়ায় যখন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি মনে হয় যেনো সোনালু ফুল অভ্যর্থনা দিয়ে আমাদের বরণ করে। এছাড়া এই আবহাওয়ার মধ্যেও যেন এক নয়নাভিরাম বার্তা দিয়ে বেড়ায় কৃষ্ণচূড়া। লাল হলুদের মিশ্রণে রাঙিয়ে রেখেছে ক্যাম্পাস আঙিনা। 

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী অঙ্কিকা চক্রবর্তী বলেন, ফুল পছন্দ নয় এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়। যখনই রাস্তাঘাটে চলাচলের জন্য বের হই আর ফুল চোখে পড়ে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি। এই রৌদ্রজ্বল আবহাওয়ার মধ্যে ডায়না চত্ত্বরের সোনালু যেনো ক্যাম্পাসে হিমুর আগমন জানান দেয়। প্রেমময় এই ঋতুতে কৃষ্ণচূড়া ফুল যেন অপরূপ এক সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি।