কাশ্মীরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পেলেট গানে আহত ও দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে আসন্ন বলিউড চলচ্চিত্র ‘চৌহান’ নিয়ে। ছবিটির টিজারে পেলেট গানকে “সীমিত ক্ষতির” অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা এক হাজারের বেশি আংশিক বা সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যাওয়া কাশ্মীরির যন্ত্রণাকে উপহাস করছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
২৮ বছর বয়সী ফেরোজ আসলাম ১০ বছর আগে কাশ্মীরের সোপোরে একটি বিক্ষোভের সময় ছোড়া পেলেটের আঘাতে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। তিনি জানান, তার দুই চোখে মোট ১৩টি পেলেট ঢুকেছিল এবং শরীরেও শতাধিক পেলেট আঘাত করেছিল। বর্তমানে তিনি দৃষ্টিহীন অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল হতে হওয়ায় মানসিক কষ্টে ভুগছেন।
আসন্ন ‘চৌহান’ চলচ্চিত্রে অভিনেতা অজয় দেবগনকে একজন ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভূমিকায় দেখা যাবে। ছবির টিজারে কাশ্মীরের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং নিরাপত্তা অভিযানের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। সেখানে পেলেট গানকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের মতে বাস্তব পরিস্থিতিকে খাটো করে দেখায়।
কাশ্মীরে পেলেট গানের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ২০১৬ সালে, যখন হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় বহু মানুষ পেলেটের আঘাতে আহত হন এবং শতাধিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারান। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন।
চিকিৎসা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরে পেলেট গানের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। জাতিসংঘও শিশুদের বিরুদ্ধে পেলেট ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালে পেলেট গানের “নির্বিচার ব্যবহার” নিয়ে সতর্ক করে বলেছিল, এটি প্রয়োজনে এবং সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত।
চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানী সাইবা ভার্মার মতে, চলচ্চিত্রটির বার্তা কাশ্মীরিদের নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তার ভাষায়, পেলেট হামলায় আহত মানুষের বাস্তব কষ্টকে রাজনৈতিক প্রতীকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
২০১৬ সালে পেলেটের আঘাতে দৃষ্টিশক্তি হারানো মাসরুর খালিদ জানান, তার মুখে এখনো শতাধিক পেলেট আটকে আছে। চিকিৎসার জন্য পরিবারের প্রায় ২০ লাখ রুপি খরচ হলেও তার দৃষ্টি ফেরেনি। তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা এমন এক ক্ষত, যা সারাজীবন বহন করতে হচ্ছে।
কাশ্মীরের পেলেট-আহতরা বলছেন, বিনোদনের নামে তাদের দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণাকে ছোট করে দেখানো উচিত নয়। তাদের অভিযোগ, চলচ্চিত্রটি বাস্তব ভুক্তভোগীদের প্রতি সংবেদনশীল না হয়ে একটি রাজনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরছে।
সূত্র: আলজাজিরা