যেখানে প্রথমবার ঐশ্বরিয়ার নীল-সবুজ চোখে ডুবেছিলেন অভিষেক

অভিষেক বচ্চনের কাছে জয়পুর শুধু একটি শহর নয়, ব্যক্তিগত জীবনেরও এক বিশেষ অধ্যায়ের নাম। এই শহরেই তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের শুরু, আবার এখানেই ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বলিউড অভিনেতা।

প্রো কাবাডি লিগের দল জয়পুর পিঙ্ক প্যান্থার্সের মালিক অভিষেক সম্প্রতি পিডব্লিউসি ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান সঞ্জীব কৃষ্ণনের পডকাস্ট ফিউচার আনপ্লাগড-এ অংশ নিয়ে জয়পুরের সঙ্গে তাঁর এই বিশেষ সম্পর্কের কথা বলেন।

অভিষেক জানান, তাঁর প্রথম সিনেমা রিফিউজির একটি অংশ ২০০০ সালে জয়পুরে শুট করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন কিছু শুরু করার সময়ও শহরটির কথা তাঁর মনে ছিল। সেই সূত্রেই জয়পুরের দল কেনার সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতির যোগসূত্রের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অভিষেক বলেন, জয়পুরে তিনি তাঁর প্রথম সিনেমার একটি অংশের শুটিং করেছিলেন। তাই নতুন কিছু শুরু করার জন্য জায়গাটিকে তিনি শুভ বলে মনে করেছিলেন। তবে শহরটির সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার কারণ ঐশ্বরিয়া।

অভিনেতার ভাষ্য অনুযায়ী, জয়পুরেই ঐশ্বরিয়া ও তাঁর প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল। ফলে জয়পুর পিঙ্ক প্যান্থার্সের সঙ্গে তাঁর যুক্ত হওয়ার পেছনে শুধু ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ নয়, ব্যক্তিগত আবেগও কাজ করেছে।

দলের নাম ও পরিচয়ের মধ্যেও সেই ব্যক্তিগত স্মৃতির ছাপ রয়েছে বলে জানান অভিষেক। দলের পিঙ্ক বা গোলাপি রঙের সঙ্গে তাঁর মেয়ে আরাধ্যার একসময়কার পছন্দের যোগসূত্র রয়েছে। অন্যদিকে প্যান্থার নামটির সঙ্গেও ঐশ্বরিয়ার স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

অভিষেক জানান, ঐশ্বরিয়া পিঙ্ক প্যান্থার সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। এমনকি জয়পুর পিঙ্ক প্যান্থার্সের প্রতীকী প্যান্থারের নীল-সবুজ চোখও তাঁর স্ত্রীর চোখের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে দলের নাম, রং ও প্রতীক, সবকিছুর মধ্যেই নিজের পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ খুঁজে পান এই অভিনেতা।

অভিষেক ও ঐশ্বরিয়ার পরিচয় অবশ্য জয়পুরে শুরু হয়নি। ২০০০ সালে ধাই আক্ষর প্রেম কে সিনেমার সেটে তাঁদের প্রথম দেখা। তখন তাঁদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। পরে কুছ না কহো সিনেমায়ও একসঙ্গে কাজ করেন তাঁরা। তবে সেসময়ও তাঁদের সম্পর্ক ছিল পেশাগত পর্যায়েই।

পরবর্তী সময়ে আবার একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। ২০০৭ সালে মুম্বাইয়ে জমকালো আয়োজনে বিয়ে করেন দুজন। একই বছর মুক্তি পায় তাঁদের একসঙ্গে অভিনীত গুরু সিনেমা।

অভিষেক এর আগে জানিয়েছিলেন, গুরু সিনেমার পরিচালক মণি রত্নম তাঁদের দুজনের কাছেই বিশেষ একজন মানুষ। দীর্ঘ দাম্পত্যজীবনের কথাও বলতে গিয়ে ঐশ্বরিয়াকে শুধু তাঁর মেয়ের মা হিসেবে নয়, নিজের জীবনসঙ্গী ও আত্মার সঙ্গী হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

১৯ বছরের দাম্পত্যজীবন নিয়ে অভিষেকের মন্তব্য, তাঁদের বিবাহিত জীবন স্বপ্নের মতো কেটেছে। আগামী ২০তম বিবাহবার্ষিকী নিয়েও তাঁর বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেতা, যদিও সেই পরিকল্পনা এখনই প্রকাশ করতে চাননি।

দাম্পত্যজীবন দীর্ঘস্থায়ী করার রহস্য জানতে চাওয়া হলে অবশ্য বেশ মজার উত্তর দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর পরামর্শ, প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে তিনবার সরি বলতে হবে।

অভিষেক ও ঐশ্বরিয়া একসঙ্গে ধাই আক্ষর প্রেম কে, কুছ না কহো, ধুম ২, গুরু, রাবণ ও সরকার রাজসহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সামনে আবারও বড় পর্দায় তাঁদের একসঙ্গে দেখা যেতে পারে। অনুরাগ কাশ্যপের গুলাব জামুন সিনেমার মাধ্যমে ফের একসঙ্গে অভিনয়ের কথা রয়েছে দুজনের। সূত্র: এনডিটিভি