ওয়ার্নার ব্রাদার্স দখলের লড়াইয়ে মুখোমুখি নেটফ্লিক্স ও প্যারামাউন্ট

বিনোদন জগতের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি’ (WBD) দখলের লড়াইয়ে মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স এবং প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স। 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শেষ হচ্ছে প্যারামাউন্টের চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময়সীমা। এই একীভূতকরণ বা একুইজিশন নিয়ে বিশ্ব বিনোদন বাণিজ্যে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নেটফ্লিক্সকে টেক্কা দিতে ডেভিড এলিসনের প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স প্রতি শেয়ারে ৩২ ডলার বা তার বেশি দর হাঁকাতে যাচ্ছে। এর আগে তাদের প্রস্তাব ছিল ৩০ ডলার।
লড়াইয়ে জিততে প্যারামাউন্ট এতটাই মরিয়া যে, চুক্তি ভঙ্গের কারণে যদি নেটফ্লিক্সকে ২.৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, তবে সেই বিশাল জরিমানার ভারও প্যারামাউন্ট বহন করতে রাজি বলে জানা গেছে।

প্যারামাউন্ট উচ্চমূল্য হাঁকালে নেটফ্লিক্স পাল্টা প্রস্তাব দেওয়ার জন্য চার দিন সময় পাবে। তবে নেটফ্লিক্সের সহ-প্রধান নির্বাহী টেড স্যারানডোস সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কৌশলী ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নেটফ্লিক্স অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ক্রেতা। অন্য কেউ যদি কোনো কিছুর জন্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দাম দিতে চায়, তবে আমরা সেই রেষারেষি থেকে সরে আসতেই পছন্দ করি।’

বিশ্লেষকদের মতে, ঋণের বোঝা এবং অন্যান্য খরচ হিসাব করলে প্রতি শেয়ারে ৩০ ডলারের বেশি দেওয়া নেটফ্লিক্সের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফলে দাম খুব বেশি বাড়লে নেটফ্লিক্স এই দৌড় থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।

এই বাণিজ্যিক লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি। তিনি নেটফ্লিক্সের বোর্ড সদস্য সুসান রাইসকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন এবং তা না করলে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘পরিণাম ভোগ’ করার কথা বলেছেন। যদিও টেড স্যারানডোস একে নিছক ব্যবসায়িক লেনদেন হিসেবেই দেখছেন।

পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এই একীভূতকরণ বিনোদন বাজারে কোনো একচেটিয়া (Monopoly) আধিপত্য তৈরি করবে কি না, তা যাচাই করার পরই চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মিলবে।

সব মিলিয়ে, ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মালিকানা শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে, তা নির্ধারণে আগামী কয়েক দিন বিশ্ব মিডিয়া বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।