মানুষের রক্ত, মস্তিষ্ক এমনকি মাতৃগর্ভেও থাবা বসিয়েছে প্লাস্টিকের অদৃশ্য কণা। এবার এক ভয়াবহ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্টেট ক্যানসার রোগীর রক্ত এবং টিউমার কোষে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (সিডিসি) এর সাম্প্রতিক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষকরা প্রস্টেট ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের টিউমার কোষ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, প্রতি গ্রাম কোষে অন্তত ৪০ মাইক্রোগ্রামের বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, এই প্লাস্টিক কণাগুলো শরীরে জমা হয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের রূপ নিচ্ছে।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া রোগীদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে। কারও শরীরে পাওয়া গেছে ‘পেট’ (PET) প্লাস্টিক যা মূলত পানির বোতলে ব্যবহৃত হয়। কারও শরীরে মিলেছে খাবারের কন্টেনারে থাকা ‘পলিস্টেরাইন’ বা পলিথিন ব্যাগের উপাদান ‘পলিইথাইলিন’। এমনকি অনেকের শরীরে একাধিক ধরনের প্লাস্টিকের মিশ্রণও পাওয়া গেছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিত্যব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেটজাত খাবার, কসমেটিকস এমনকি ওষুধের কন্টেনার থেকেও এসব সূক্ষ্ম কণা শরীরে প্রবেশ করছে। ৫০ মাইক্রনের নিচের প্লাস্টিক নিষিদ্ধ হলেও বাজার ও গৃহস্থালিতে এর অবাধ ব্যবহার জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।
গবেষণায় আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু ক্যানসার নয়, বরং ইনসুলিন ক্ষরণে বাধা দিয়ে ডায়াবেটিস তৈরি করতে পারে। এছাড়া এটি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং শিশুদের জন্মগত ত্রুটির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মানুষের অজান্তেই রক্তে মিশে যাওয়া এই প্লাস্টিক এখন বিশ্বজুড়ে এক নীরব ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।