পবিত্র রমজান মাসে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার ফলে এই সময়ে অনেকেরই মুখ ও দাঁতের নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়।
মুখের দুর্গন্ধ ও প্রতিকার
রোজায় মুখের প্রধান সমস্যা হলো দুর্গন্ধ। দীর্ঘ সময় মুখ শুষ্ক থাকা এবং জমে থাকা খাদ্যকণা থেকে ব্যাক্টেরিয়ার প্রভাবে সালফাইড ও অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হওয়ায় এই দুর্গন্ধ হয়। ডা. মিলভা জানান, অনেকে রোজা রেখে বারবার থুতু ফেলেন, যা মুখগহ্বরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করে এবং সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। দুর্গন্ধ এড়াতে সেহরি ও ইফতারের পর নিয়ম মেনে দাঁত ব্রাশ করা এবং জিহ্বা পরিষ্কার রাখা জরুরি।
দাঁতের যত্নে ১০টি জরুরি টিপস
১. ব্রাশের সঠিক সময়: ইফতারের পর এবং অবশ্যই সেহরির শেষে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
২. ফ্লসিং ও মাউথওয়াশ: ব্রাশ করার আগে ‘ডেন্টাল ফ্লস’ দিয়ে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করে মাউথওয়াশ ব্যবহার করা ভালো।
৩. সতর্ক মেসওয়াক: মেসওয়াক করার সময় তাড়াহুড়ো করা যাবে না, যাতে মাড়িতে আঘাত না লাগে।
৪. জিহ্বা পরিষ্কার: দুর্গন্ধ দূর করতে টাং স্ক্র্যাপার বা ব্রাশ দিয়ে নিয়মিত জিব পরিষ্কার করতে হবে।
৫. ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার: মাড়ি থেকে রক্ত পড়া রোধে ইফতারে লেবু, কমলা, আমড়া ও মাল্টার মতো ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল রাখতে হবে।
৬. ভাজাপোড়া বর্জন: অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, পেঁয়াজ ও রসুনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
৭. মিষ্টি খাবারে সতর্কতা: শর্করা বা মিষ্টি জাতীয় খাবার দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে। তাই মিষ্টি খাওয়ার পর ভালো করে কুলি বা ব্রাশ করতে হবে।
৮. ধূমপান ও পান বর্জন: ইফতারের পর সিগারেট, জর্দা বা পান খাওয়া দাঁত ও মাড়ির মারাত্মক ক্ষতি করে।
৯. পর্যাপ্ত পানি পান: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে।
১০. রং চা বা গ্রিন টি: দুধ চায়ের পরিবর্তে রং চা বা গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।
রোজা রেখে দাঁতের চিকিৎসা
অনেকের ধারণা রোজা রেখে দাঁতের চিকিৎসা করা যায় না। তবে রোজা রেখে ফিলিং, রুট ক্যানেল, ক্যাপ, এমনকি স্কেলিংও করা সম্ভব। আধুনিক আল্ট্রাসোনিক মেশিনে রক্তপাতহীন স্কেলিং করা যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন পানি গলার ভেতরে প্রবেশ না করে। তীব্র ব্যথায় রোজা রেখে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিলেও রোজা নষ্ট হয় না।