অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার লক্ষণ, কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

সাধারণ রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া বলতে আমরা কেবল আয়রনের ঘাটতিকেই বুঝি। কিন্তু এর বাইরেও রয়েছে রক্তের এক অত্যন্ত বিরল ও প্রাণঘাতী রূপ, যার নাম ‘অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া’। এই রোগে শরীরের ‘রক্ত তৈরির কারখানা’ হিসেবে পরিচিত বোন ম্যারো বা অস্থিমজ্জা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এই রোগ রোগীর জীবনের জন্য চরম ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বোন ম্যারো ফেলিওর আসলে কী?

অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত রোগীর বোন ম্যারো পর্যাপ্ত পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লাটিলেট উৎপাদন করতে পারে না। ফলে শরীরে মারাত্মক দুর্বলতা দেখা দেয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা একে ‘বোন ম্যারো ফেলিওর’ বলে অভিহিত করেন।

কেন হয় এই রোগ?

চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে তরুণদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি। নির্দিষ্ট কারণ অনেক সময় জানা না গেলেও প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • বংশগত সমস্যা বা জেনেটিক ত্রুটি।
  • ক্ষতিকর রাসায়নিক (যেমন বেনজিন) বা রেডিয়েশনের প্রভাব।
  • ভাইরাল সংক্রমণ ও অটোইমিউন রোগ।
  • নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

যেসব লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন

অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার লক্ষণগুলো অনেক সময় ধীরে ধীরে শরীরে প্রকাশ পায়। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো-

১. অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা।

২. সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট।

৩. মাড়ি, নাক বা শরীরের অন্য স্থান থেকে রক্তপাত।

৪. ত্বকে সহজেই নীল দাগ পড়া।

৫. ঘন ঘন জ্বর বা শরীরের যেকোনো অংশে সংক্রমণ।

৬. মুখে বারবার ঘা হওয়া।

চিকিৎসা ও বাঁচার উপায়

বর্তমানে এই রোগের আধুনিক ও কার্যকর চিকিৎসা বাংলাদেশেও সম্ভব। তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রে ‘হেমাটোপোয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট’ সবচেয়ে সফল পদ্ধতি, যার সাফল্যের হার প্রায় ৯০ শতাংশ। অন্যদিকে, বয়স্ক বা যারা অস্ত্রোপচারের উপযুক্ত নন, তাদের জন্য ‘ট্রিপল ইমিউনোসাপ্রেসিভ থেরাপি’র মাধ্যমে প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া বিরল হলেও সময়মতো শনাক্ত করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন বা ক্লান্তি দেখা দিলে দ্রুত হেমাটোলজিস্ট বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

NB
আরও পড়ুন