মাদক সেবনে দ্বিগুণ বাড়ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি

মাদক সেবন কেবল আসক্তিই তৈরি করে না, এটি মস্তিষ্কের স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণ বা তারও বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি মানুষের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর গবেষকরা এই ভয়াবহ তথ্য জানিয়েছেন।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মাদক সেবন করেন না, তাদের তুলনায় মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের স্ট্রোকের হার অনেক বেশি। 'ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ স্ট্রোক'-এ এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

কোন মাদকে কত ঝুঁকি?
গবেষণায় বিভিন্ন ধরণের মাদকের প্রভাব আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে:
১. অ্যাম্ফিটামিন: এই জাতীয় মাদক সেবনে স্ট্রোকের ঝুঁকি ১২২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
২. কোকেইন: কোকেইন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ৯৬ শতাংশ বেশি।
৩. গাঁজা বা ক্যানাবিস: গাঁজা সেবনকারীদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৭ শতাংশ বেশি।

তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, ওপিঅয়েড বা আসক্তি তৈরি করে এমন ব্যথানাশক ওষুধের সঙ্গে স্ট্রোকের সরাসরি কোনো সম্পর্ক এই গবেষণায় পাওয়া যায়নি।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, স্ট্রোক কেবল বয়স্কদের রোগ নয়। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে যারা অ্যাম্ফিটামিন জাতীয় মাদক গ্রহণ করেন, তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পায়। তরুণ কোকেইন ব্যবহারকারীদের ঝুঁকিও ৯৭ শতাংশ বেশি। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. মেগান রিটসন বলেন, ‘অবৈধ মাদক সেবন স্ট্রোকের একটি বড় কারণ, যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু তরুণরা সম্ভবত জানেন না যে এটি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।’

চিকিৎসকদের মতে, মাদক শরীরের রক্ত সংবহনতন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। কোকেইন এবং অ্যাম্ফিটামিন রক্তচাপকে হুট করে অনেক বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে ফেলে। এর ফলে রক্তনালী ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে অথবা রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়ে স্ট্রোক ঘটে। অন্যদিকে, গাঁজা রক্তনালী সংকোচনের পাশাপাশি রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ নিয়মিত মাদক গ্রহণ করছেন। স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী জুলিয়েট বুভেরি বলেন, ‘মস্তিষ্কের স্ট্রোকের কারণে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। অথচ ১০টির মধ্যে ৯টি স্ট্রোকই জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও পরিমিত অভ্যাসের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

বিশেষজ্ঞরা মাদক বর্জন করে সুস্থ জীবনযাপন, সুষম খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।