বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এখন ধীরে ধীরে এক ভয়াবহ এবং বহুমাত্রিক জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিচ্ছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, যুদ্ধ-সংঘাত, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং অনিশ্চয়তায় ভরা আধুনিক জীবনের চাপে মানুষের মানসিক স্থিতি ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)–এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের শত কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আলজাজিরা–র এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মানসিক রোগগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতাই সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করেছে। প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৬৯৪ জন বিষণ্নতায় এবং ৬৮৬ জন উদ্বেগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। দিন দিন এই সংখ্যা আরও বাড়ছে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিসঅর্ডার এবং খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক রোগও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা কেবল ব্যক্তির জীবন নয়, পরিবার ও সমাজব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাগুলো এখন বিশ্বে দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতি ছয়টি ‘ইয়ার্স লিভড উইথ ডিসঅ্যাবিলিটি’-এর মধ্যে একটি মানসিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন এমন এক নীরব যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন, যা বাইরে থেকে সবসময় দৃশ্যমান না হলেও ভেতরে ভেতরে তাদের কর্মক্ষমতা, সামাজিক সম্পর্ক এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আত্মহত্যার হার নিয়েও বাড়ছে গভীর উদ্বেগ। ২০২১ সালে বিশ্বে পুরুষদের আত্মহত্যার হার নারীদের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈষম্য, যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, সামাজিক নিপীড়ন, একাকীত্ব, মানসিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষের মানসিক ভাঙনের বড় কারণ হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় সহায়তা, চিকিৎসা কিংবা মানসিক সমর্থনের অভাবে মানুষ ধীরে ধীরে হতাশার অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা