বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাণঘাতী ‘হান্টাভাইরাস’। একটি প্রমোদতরী থেকে শুরু হওয়া এই ভাইরাসের সংক্রমণে এখন পর্যন্ত ১১ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৯ জনের শরীরে সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রাদুর্ভাবের জেরে ভার্তেও নতুন মহামারির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ফরাসি নারীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জেভিয়ার লেস্কিউর জানিয়েছেন, ওই নারী হান্টাভাইরাসের একটি গুরুতর রূপে আক্রান্ত হয়েছেন, যা তার ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডকে অকেজো করে দিয়েছে। বর্তমানে তাকে কৃত্রিম ফুসফুস বা লাইফ-সাপোর্ট সিস্টেমে রাখা হয়েছে, যা রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এছাড়া স্পেনের এক যাত্রীও এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন, তাকে মাদ্রিদের একটি সামরিক হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রমোদতরীতে থাকা এক ডাচ দম্পতিসহ মোট ৩ জন ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণের সময় ওই যাত্রীরা প্রথম এই ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, এটিই কোনো প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের প্রথম প্রাদুর্ভাবের ঘটনা।

হান্টাভাইরাস হলো একটি 'জুনোটিক' আরএনএ (RNA) ভাইরাস, যা মূলত ইঁদুর বা এই জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। করোনার মতোই এটি দ্রুত এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়তে এবং জিনের মিউটেশন ঘটাতে সক্ষম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ফুসফুস ও কিডনির।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, এই মুহূর্তে বড় কোনো প্রাদুর্ভাবের লক্ষণ দেখা না গেলেও পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে এবং আগামী সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হান্টাভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক বা টিকা নেই, তাই দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সঠিক চিকিৎসাই এখন জীবন বাঁচানোর একমাত্র পথ।